Cricket News

প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে বিদ্রোহের সুর: বিগ ব্যাশ লিগ ছাড়ার হুমকিতে অস্ট্রেলিয়ার তারকারা

Elena V. Kostova · · 1 min read
Share

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে বেতন বৈষম্য ও বড় ধরনের বিদ্রোহের ইঙ্গিত

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বর্তমানে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একদিকে জাতীয় দলের গৌরব আর অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর বিশাল অর্থের হাতছানি। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড ও দ্য এজ-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার জশ হ্যাজেলউডসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় ২০২৮ সালের বিগ ব্যাশ লিগ (BBL) থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি২০ লিগ, SA20।

SA20-এর বিশাল প্রস্তাব এবং বিপিএলের আর্থিক সীমাবদ্ধতা

প্রতিবেদন অনুসারে, অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়, তা বিশ্ববাজারের তুলনায় অনেকটাই কম। কামিন্স এবং অন্যান্য সিনিয়র ক্রিকেটাররা মনে করেন, যদি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA) বিগ ব্যাশ লিগে খেলার জন্য খেলোয়াড় প্রতি প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার (১০ লক্ষ ডলার) নিশ্চিত করতে না পারে, তবে তারা বিদেশের লিগগুলোকেই বেছে নেবেন।

গোপন আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, যদি একটি ন্যায্য বেতনের চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে কামিন্স এবং অন্যান্যরা ২০২৮ সালে SA20 খেলার জন্য বোর্ডের কাছে অনাপত্তিপত্র (NOC) চাইবেন। SA20 এবং ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা একটি স্বল্প সময়ের টুর্নামেন্টের জন্য প্রায় ১ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

দ্য হান্ড্রেড-এর বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া

আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড এবং মিচেল স্টার্ক প্রত্যেকেই চলতি বছর ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য প্রায় ৮ লক্ষ ডলারের (প্রায় ৫ লক্ষ পাউন্ড) প্রাক-নিলাম প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে তারা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে আগস্টের টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুত থাকতে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। যদিও মিচ মার্শ, টিম ডেভিড এবং অ্যাডাম জাম্পার মতো অন্যান্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা সেই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন।

READ:  ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বনাম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট: নাহিদ রানার ভবিষ্যৎ ও তামিম ইকবালের সতর্কবার্তা

এই বিষয়ে প্যাট কামিন্স তার ‘বিজনেস অফ স্পোর্ট’ পডকাস্টে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কিছু খেলোয়াড় বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাওয়া ৫ লক্ষ পাউন্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে। আমি মনে করি এটি একটি উত্তেজনার বিন্দু। বর্তমানে আমাদের ছেলেরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য এতটাই আগ্রহী যে তারা সেই অর্থ ত্যাগ করতে পেরে খুশি, কিন্তু আমার মনে হয় না আমরা চিরকাল এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে আশা করতে পারি।”

বিদেশি ড্রাফট বাতিলের পথে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বিপিএলের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে। তারা সম্ভবত ‘ওভারসিজ প্লেয়ার ড্রাফট’ পুরোপুরি বাতিল করতে চলেছে। ২০২২ সাল থেকে ‘প্লাটিনাম’ এবং ‘গোল্ড’ ক্যাটাগরির বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য বোর্ড ২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে। সিএ-র পরিকল্পনা হলো, এই বিপুল অর্থ সাশ্রয় করে তা প্যাট কামিন্সদের মতো দেশি তারকাদের পেছনে ব্যয় করা, যাতে বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনা যায়।

প্রাক্তন সিএ প্রধান নির্বাহী ম্যালকম স্পিড এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, “বিপিএলে বিদেশি খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়, তারা শীর্ষ স্থানীয় অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের চেয়ে প্রায় ১ লক্ষ ডলার বেশি পায়। এটি বন্ধ করা উচিত। অস্ট্রেলিয়ানদেরও অন্যদের মতো সমান পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার আছে।”

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রধান জেমস অলসপ এই চ্যালেঞ্জটি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এখন এমন এক পৃথিবী যেখানে খেলোয়াড়রা ফ্র্যাঞ্চাইজি সার্কিটে যোগ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের বাইরে বা এমনকি আমাদের বিপিএলের বাইরেও খুব ভালো জীবনযাপন করতে পারে। এটি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সেরা স্বার্থে হবে না।”

অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও বিনিয়োগের ব্যর্থতা

বেতন নিয়ে বিতর্ক কেবল বোর্ড আর খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিপিএলে খেলা অনেক ঘরোয়া খেলোয়াড় ক্ষুব্ধ যে, ড্রাফটের মাধ্যমে আসা স্বল্প পরিচিত বিদেশি খেলোয়াড়রা তাদের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি, কামিন্স এবং ট্র্যাভিস হেডকে দেওয়া বিশাল অঙ্কের মাল্টি-ইয়ার চুক্তির কারণে সাধারণ চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

READ:  ভারত বনাম আফগানিস্তান টেস্ট: দল থেকে বাদ পড়তে পারেন অক্ষর প্যাটেল?

এদিকে, বিপিএল ক্লাবগুলোর মালিকানা ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে। সিএ আটটি ক্লাবের অংশীদারিত্ব বিক্রির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে, যার মানে ২০২৭-২৮ মৌসুমে কোনো বেসরকারি বিনিয়োগকারী থাকছে না। সিডনি থান্ডারের সাথে যুক্ত থাকলেও প্যাট কামিন্স ২০১৯ সালের পর কোনো বিপিএল ম্যাচ খেলেননি। যদি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া খেলোয়াড়দের বেতনের বিষয়ে দ্রুত এবং কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তবে কামিন্সের এই অনুপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং অন্যান্য তারকারাও একই পথ অনুসরণ করবেন।

Elena V. Kostova

Cricket's leading voice in Eastern Europe and an aggressive advocate for women's cricket globally. Elena V. Kostova transitioned from playing professional softball to becoming a prominent analyst for ICC Women's events. She specializes in "women's cricket rankings," "emerging associate nations," and "grassroots development." Her passionate editorials on equal pay and broadcast coverage for women's Tests have sparked real conversations across the sport's traditional powerbases.