End Of Road For Shimron Hetmyer; Players Rajasthan Royals Should Release Before – আইপিএল ২০২৭: রাজস্থান রয়্যালস যে খেলোয়াড়দের দল থেকে বাদ দিতে পারে
রাজস্থান রয়্যালসের হতাশাজনক বিদায় ও নতুন পরিকল্পনা
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি রাজস্থান রয়্যালসের জন্য ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার। রিয়ান পরাগের নেতৃত্বাধীন দলটি দুর্দান্তভাবে যাত্রা শুরু করলেও, মৌসুমের শেষদিকে এসে তাদের ছন্দপতন ঘটে। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে হৃদয়বিদারক পরাজয়ের মাধ্যমে তাদের শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়। যদিও বৈভব সূর্যবংশীর অসাধারণ ব্যাটিং এবং ১৫ ইনিংসে ৭৭৬ রান সংগ্রহ ছিল দলের প্রাপ্তি, তবুও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে অনেক খেলোয়াড়ই দলের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
মৌসুমের মাঝপথে দলের ধারাবাহিকতার অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থতা ম্যানেজমেন্টকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। আইপিএল ২০২৭-এর নিলামের আগে রাজস্থান রয়্যালস বেশ কিছু বড় নামের ওপর থেকে আস্থা তুলে নিতে পারে। এর ফলে তারা নিলামের টেবিলে ৩১.১ কোটি টাকার বিশাল বাজেট নিয়ে নামার সুযোগ পাবে।
যেসব খেলোয়াড়দের বিদায় নিশ্চিত হতে পারে
নিচে সেই তালিকাটি তুলে ধরা হলো, যাদের পারফরম্যান্স এবং পারিশ্রমিকের ভারসাম্যহীনতার কারণে দল থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি:
- ১. শিমরন হেটমায়ার (১১ কোটি টাকা): ক্যারিবীয় এই ব্যাটার ১১ কোটি টাকার মূল্যমানের প্রতিদান দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। ২০২৬ মৌসুমে মাত্র ৭ ইনিংসে ৭৮ রান করেছেন তিনি, যেখানে তার গড় ছিল মাত্র ১৩.০০। টানা দুই মৌসুম বাজে ফর্মের কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
- ২. রবি বিষ্ণোই (৭.২ কোটি টাকা): টুর্নামেন্টের শুরুতে ছন্দে থাকলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বিষ্ণোই তার ধার হারিয়ে ফেলেন। যশ পুঞ্জা দলে আসার পর থেকেই স্পিন বিভাগে তার গুরুত্ব কমে যায়। ৭.২ কোটি টাকার একজন বোলারের কাছ থেকে যে ধারাবাহিকতা প্রত্যাশিত ছিল, তা তিনি দিতে পারেননি।
- ৩. তুষার দেশপান্ডে (৬.৫ কোটি টাকা): একজন বোলার হিসেবে ৬.৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেলেও, তুষার দেশপান্ডে মাত্র ৭ ইনিংসে ৪ উইকেট নিতে পেরেছেন। তার ইকোনমি রেট (১১.৯৬) অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা দলের পরাজয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে।
- ৪. সন্দীপ শর্মা (৪ কোটি টাকা): অভিজ্ঞ এই বোলার ৬ ইনিংসে মাত্র ৫ উইকেট নিতে সক্ষম হন। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে তিনি আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় নেই।
- ৫. অ্যাডাম মিলনে (২.৪ কোটি টাকা): কিউই এই পেসার মাত্র একটি সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সেই ম্যাচে ৪১ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। বিদেশি কোটার একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিলামে নতুন দিশা
এই পাঁচজন খেলোয়াড়কে রিলিজ করার মাধ্যমে রাজস্থান রয়্যালস তাদের পার্স থেকে ৩১.১ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারবে। এই বিশাল অর্থ আসন্ন নিলামে দলের বোলিং আক্রমণ এবং মিডল অর্ডার শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রিয়ান পরাগের নেতৃত্বে রাজস্থান রয়্যালস কি পারবে ২০২৭ সালে নতুন কোনো ইতিহাস লিখতে? সেটিই এখন দেখার বিষয়।
দলবদলের এই প্রক্রিয়ায় রাজস্থানের মূল লক্ষ্য হবে কম খরচে কার্যকর খেলোয়াড় খুঁজে বের করা। বিশেষ করে বোলিং ইউনিটে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, যা আমরা আগামী নিলামে দেখতে পাব। দলের ভক্তদের এখন শুধু অপেক্ষার পালা, নতুন মৌসুমে কোন নতুন মুখদের রাজস্থানের জার্সিতে দেখা যায়।
