আইপিএলে রোহিত শর্মার অনন্য রেকর্ডে ভাগ বসালেন বিরাট কোহলি
Contents
আইপিএলে এক নতুন উচ্চতায় বিরাট কোহলি
আইপিএলের ইতিহাসে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত সাফল্যের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন এল। কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) বিপক্ষে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিরাট কোহলি ছুঁয়ে ফেললেন রোহিত শর্মাকে। এটি কেবল একটি জয়ের ম্যাচ ছিল না, বরং কোহলির ক্যারিয়ারের আরও একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রইল।
রেকর্ডের সমীকরণ
বুধবার রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে কেকেআরের দেওয়া ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোহলি অপরাজিত ১০৫ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেন। এই জয়ের নায়ক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে কোহলি আইপিএলে তার ২১তম ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারটি অর্জন করলেন। এর মাধ্যমেই তিনি আইপিএলের ইতিহাসে ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ এই পুরস্কার জয়ের তালিকায় রোহিত শর্মার রেকর্ডে ভাগ বসালেন। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স (২৫ বার) এবং ক্রিস গেইল (২২ বার)। ভারতীয়দের মধ্যে মহেন্দ্র সিং ধোনি ১৮ বার এই পুরস্কার জিতে তালিকার পরের দিকে রয়েছেন।
ক্রিকেটের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোহলির কণ্ঠস্বর ছিল বেশ আবেগময়। ৩৭ বছর বয়সেও কীভাবে ক্রিকেটের প্রতি তার এই অদম্য ভালোবাসা অটুট রয়েছে, তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং আমি এখনো আগের মতোই ভালোবাসি। এটি আমার হৃদয়ের একদম গভীরে প্রোথিত। এই পর্যায়ে খেলতে পারা এবং বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। আমার সারাজীবন তো এই ক্রিকেট ঘিরেই। একদিন সব শেষ হয়ে যাবে, তাই মাঠে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমি সর্বোচ্চ উপভোগ করতে চাই।’
চাপ মোকাবিলা এবং ব্যক্তিগত দর্শন
কোহলি মনে করেন, চাপের পরিস্থিতি তাকে আরও পরিণত করে তোলে। তিনি বলেন, ‘চাপ আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। যখনই আমি মাঠের মধ্যে চাপের মুখে পড়ি, তখনই নিজেকে চ্যালেঞ্জ জানাই। আপনি যখন কঠিন পরিস্থিতি পার হয়ে আসেন, তখন তা আপনাকে একজন উন্নত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলে। খেলা আপনাকে মানুষ হিসেবেও অনেক কিছু শেখায়। আমার কাছে সংখ্যার চেয়ে বড় হলো খেলার প্রতি আবেগ। আমি এখনো ব্যাটের মাঝে বল লাগাতে ভালোবাসি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সবকিছুই ঈশ্বরের কৃপা। আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকি যে এত বছর পরেও আমার ব্যাটিংয়ের প্রতি এই তীব্র টান বজায় আছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’
কৌশলী ব্যাটিংয়ের রহস্য
ইনিংসটি কীভাবে সাজিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোহলি জানান, অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে তিনি নিজের স্বাভাবিক খেলায় আস্থা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অহেতুক কিছু করার চেষ্টা করিনি। বরং গ্যাপ খুঁজে বের করা, স্ট্রাইক রোটেট করা এবং সঠিক ডেলিভারি বেছে নিয়ে আক্রমণ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল দলের চাহিদা অনুযায়ী খেলা। আমি খুব স্পষ্টভাবে জানতাম কোথায় শট খেলতে হবে এবং কোন বলে ছয় মারতে হবে। আমার গেম প্ল্যান অনুযায়ী খেলতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।’
উপসংহার
কোহলির এই ধ্রুপদী ব্যাটিং কেবল আরসিবির জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং প্রমাণ করেছে যে বয়সের ভার তার পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি যেভাবে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন, তা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য এক বড় শিক্ষা। আইপিএলের এই মৌসুমে কোহলি যেভাবে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছেন, তাতে ভক্তদের প্রত্যাশা ক্রমশই বাড়ছে। রোহিত শর্মার মতো কিংবদন্তির রেকর্ডের পাশে নিজের নাম লেখানো কোহলির দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত করল।
- ম্যাচের ফলাফল: আরসিবি ৬ উইকেটে জয়ী।
- কোহলির স্কোর: ৬০ বলে অপরাজিত ১০৫ রান।
- রেকর্ড: আইপিএলে ২১তম প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার।
বিরাট কোহলির এই ধারাবাহিকতা এবং খেলার প্রতি একাগ্রতা তাকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে রেখেছে। চাপের মুখে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার এই মানসিকতাই তাকে বাকিদের চেয়ে আলাদা করে তোলে।
