Oliver Peake poised to eclipse Ricky Ponting with historic Australia debut – অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেক অলিভার পিকের, রিকি পন্টিংকে ছাড়িয়ে ইতিহাস
Contents
নতুন দিগন্তে অলিভার পিক
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের আকাশে উদিত হতে যাচ্ছে এক নতুন নক্ষত্র। ১৯ বছর বয়সী তরুণ ব্যাটার অলিভার পিকের ওয়ানডে অভিষেক নিশ্চিত হয়েছে, যা রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিতব্য পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে নতুন এক ইতিহাসের জন্ম দেবে। শুক্রবার দলের অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক জশ ইংলিস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই অভিষেকের মাধ্যমে পিক অস্ট্রেলিয়ার ২৫২তম ওয়ানডে খেলোয়াড় হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন।
রেকর্ডের পাতায় অলিভার পিক
অলিভার পিকের এই অভিষেক কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ নয়, এটি পরিসংখ্যানের পাতায় এক অনন্য মাইলফলক। মাঠে নামার দিন তার বয়স হবে ১৯ বছর ২৬১ দিন। এর ফলে তিনি রিকি পন্টিংকে পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে রেকর্ড গড়বেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে ওয়ানডে অভিষেকের সময় কিংবদন্তি পন্টিংয়ের বয়স ছিল ২০ বছর ৫৮ দিন। যদিও মিচেল মার্শ ১৯ বছর ৩৬৪ দিন বয়সে অভিষেক করেছিলেন, কিন্তু তিনি মূলত অলরাউন্ডার হিসেবে খেলেছিলেন। সর্বকনিষ্ঠ অজি খেলোয়াড় হিসেবে প্যাট কামিন্সের রেকর্ডটি এখনো অক্ষত রয়েছে, যিনি ১৮ বছর ১৬৪ দিন বয়সে অভিষেক করেছিলেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে সিনিয়র দলে
পিকের এই দ্রুত উত্থান বিস্ময়কর মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও সাফল্যের গল্প। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়া যখন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় করে, তখন মাত্র ১৭ বছর বয়সী পিক সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। এছাড়া ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি দলকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যান এবং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার পরিসংখ্যান বেশ আশাব্যঞ্জক। ১৩টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে তিনি ২৬ গড়ে ৫২০ রান করেছেন। এছাড়া ৬টি লিস্ট-এ ম্যাচে ৩৬.৭৫ গড়ে ১৪৭ রান এবং বিগ ব্যাশ লীগে সাত ম্যাচে ১৩৭ স্ট্রাইক রেটে ১৮৪ রান সংগ্রহ করেছেন। মেলবোর্ন রেনিগেডসের হয়ে তার সাহসী ব্যাটিংয়ের প্রমাণ মিলেছে পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে, যেখানে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি।
অধিনায়ক ও সতীর্থদের উচ্ছ্বাস
রাওয়ালপিন্ডিতে সংবাদ সম্মেলনে জশ ইংলিস পিকের প্রশংসা করে বলেন, ‘অলিভার পিকের অভিষেক হতে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উত্তেজনার। সে দলের সাথে দারুণ মানিয়ে নিয়েছে এবং বিগত কয়েক বছরে তার পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসনীয়। সে এই সুযোগের দাবিদার।’ দলের সার্বিক ভারসাম্যে পিকের উপস্থিতি তরুণদের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিলি স্ট্যানলেকের প্রত্যাবর্তনের গল্প
পিকের অভিষেকের পাশাপাশি আরও একটি সুখবর দিয়েছেন ইংলিস। ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ফিরছেন ডানহাতি পেসার বিলি স্ট্যানলেক। স্ট্যানলেকের এই প্রত্যাবর্তন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস। দীর্ঘ বিরতির পর তার কঠোর পরিশ্রম এবং গত বছরের পারফরম্যান্স তাকে আবারও জাতীয় দলের জার্সি এনে দিয়েছে। তার এই লড়াই ও স্থিতিস্থাপকতা দলের জন্য বড় সম্পদ হবে।
ভবিষ্যতের পথচলা
অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে এই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং মিচেল মার্শ চোটের কারণে দলের বাইরে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলের তরুণ শক্তির উপর ভরসা রাখাটা নির্বাচকদের দূরদর্শিতার পরিচয়। অলিভার পিকের মতো তরুণ প্রতিভা যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন, তবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট আগামী এক দশকের জন্য সুরক্ষিত থাকবে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন রাওয়ালপিন্ডির বাইশ গজে, যেখানে পিক হয়তো নতুন কোনো মহাকাব্যের সূচনা করবেন।
