আইপিএলের ইতিহাসে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়লেন অংশুল কম্বোজ
Contents
আইপিএলের ইতিহাসে এক লজ্জার মাইলফলক
আইপিএল ২০২৬ যেন নতুন নতুন চমক আর রেকর্ডের জন্ম দিচ্ছে। তবে এবারের আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) পেসার অংশুল কম্বোজের জন্য শুক্রবারের ম্যাচটি ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ইকানা স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালীন তিনি এমন এক রেকর্ডের মালিক হলেন যা কোনো বোলারই চাইবেন না। প্রাক্তন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তারকা এই ম্যাচে এমন মার খেয়েছেন যা আইপিএলের ইতিহাসে বিরল।
মিচেল মার্শের তাণ্ডব ও কম্বোজের অসহায়ত্ব
ম্যাচের পঞ্চম ওভারে যখন বল করতে এলেন অংশুল কম্বোজ, তখন কেউই ভাবেননি কী অপেক্ষা করছে। অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ব্যাটার মিচেল মার্শ যেন ঠিক করেই রেখেছিলেন বোলারকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। সেই ওভারে মার্শ পর পর চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে বোলারকে দিশেহারা করে ফেলেন। যদিও পঞ্চম বলটি ডট ছিল, তবে শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে মার্শ বুঝিয়ে দেন তিনি কতটা বিধ্বংসী মেজাজে রয়েছেন। সেই এক ওভারে মোট ২৮ রান খরচ করেন কম্বোজ। এরপর নিকোলাস পুরান এসে তার দুর্দশা আরও বাড়িয়ে দেন। লখনউয়ের জয়ের জন্য যখন ২৪ রান দরকার ছিল, পুরান চার বলে চার ছক্কা মেরে ম্যাচটি এক নিমেষেই শেষ করে দেন। শেষ পর্যন্ত ২.৪ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন এই বোলার।
অম্বাতি রাইডুর সমর্থন
ম্যাচ শেষে অংশুল কম্বোজের পারফরম্যান্স নিয়ে যখন সমালোচনা তুঙ্গে, তখন তার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন সিএসকে তারকা অম্বাতি রাইডু। ৩৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ব্যাটার মনে করেন, এটি ছিল কেবল একটি খারাপ দিন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ‘টাইম-আউট’ শো-তে রাইডু বলেন, ‘অংশুল এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত ভালো বল করেছে। ভালো বোলারদেরও খারাপ দিন আসে। মার্শ যে ব্যাট করেছে তা অবিশ্বাস্য। তবে চেন্নাইয়ের সতীর্থদের উচিত ছিল এই মুহূর্তে তাকে সাহস জোগানো এবং কিছুটা সময় নিয়ে বল করতে বলা।’
আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ের তালিকা
পরিসংখ্যান বলছে, অংশুলের এই ২.৪ ওভারে ০/৬৩ রানের বোলিং পরিসংখ্যান আইপিএলের ইতিহাসে ২২তম খরুচে বোলিং। তবে এই তালিকায় আরও ভয়াবহ পরিসংখ্যান রয়েছে। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ডটি বর্তমান সময়ে জফরা আর্চারের দখলে। ২০২৫ সালে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলার সময় তিনি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৭৬ রান দিয়েছিলেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি, যিনি ২০২৫ সালে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে ৭৫ রান দিয়েছিলেন। এছাড়া উইলিয়াম ও’রোর্ক, মোহিত শর্মা ও বাসিল থাম্পি এই তালিকার ওপরের দিকে অবস্থান করছেন।
ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণ ও শিক্ষা
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন বোলারের জন্য এমন অভিজ্ঞতা খুবই সাধারণ, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটাররা ভালো ছন্দে থাকেন। অংশুল কম্বোজের জন্য এই ম্যাচটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং মানসিক শক্তির পরীক্ষার মতো। টি-টোয়েন্টিতে লাইন ও লেংথের সামান্য বিচ্যুতি কীভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে। তবে ভবিষ্যতের জন্য তাকে নিজের বোলিং বৈচিত্র্য ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর আরও কাজ করতে হবে। আইপিএলের মতো মঞ্চে বড় বড় ব্যাটারদের বিপক্ষে টিকে থাকা সহজ নয়, কিন্তু এই অভিজ্ঞতা থেকেই বড় ক্রিকেটাররা শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যান।
চেন্নাই সুপার কিংসের মতো দলে সুযোগ পাওয়া অংশুলের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তিনি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। আইপিএলের এই আসর যেমন রোমাঞ্চে ভরা, তেমনি বোলারদের জন্য এটি প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জের নামান্তর। আশা করা যায়, আগামী ম্যাচগুলোতে অংশুল তার চেনা ছন্দে ফিরবেন এবং দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
