আইপিএল ২০২৬: কেকেআরের হয়ে ৮ বল পরেই মাঠ ছাড়লেন মাথিশা পাথিরানা
Contents
মাথিশা পাথিরানার দুর্ভাগ্য: মাত্র ৮ বল করেই শেষ আইপিএল অভিষেক
কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) সমর্থকদের জন্য ১৬ মে তারিখটি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইডেন গার্ডেনসে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে আইপিএল ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানা। ১৮ কোটি রুপির বিনিময়ে নিলামে দলে ভেড়ানো এই শ্রীলঙ্কান পেসারকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু বিধিবাম, মাত্র ৮ বল করার পরই চোটের কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর হতাশাজনক সমাপ্তি
মাথিশা পাথিরানা এই মৌসুমের প্রথম ১১টি ম্যাচ খেলতে পারেননি। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় পাওয়া কাফ ইনজুরি তাকে মাঠের বাইরে রেখেছিল। সুস্থ হয়ে যখন তিনি কেকেআরের জার্সিতে অভিষেক করলেন, তখন তাকে বেশ ছন্দে দেখাচ্ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়। কেকেআর ম্যানেজমেন্ট এবং ভক্তদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা, বিশেষ করে যখন প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে প্রতিটি ম্যাচ তাদের জন্য মরণপণ লড়াইয়ের মতো।
কেকেআরের ব্যাটিং তাণ্ডব
পাথিরানার চোটের দুঃসংবাদের পাশাপাশি এই ম্যাচে কেকেআরের ব্যাটিং ছিল দেখার মতো। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক শুভমান গিল, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বড় ভুল প্রমাণিত হয়। কিউই ব্যাটার ফিন অ্যালেন শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন। মোহাম্মদ সিরাজের মতো বোলাররা তার ক্যাচ মিস করার মাশুল দিয়েছেন চরমভাবে।
ফিন অ্যালেন মাত্র ৩৫ বলে ৯৩ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১০টি বিশাল ছক্কা এবং ৪টি বাউন্ডারি। গুজরাট টাইটান্সের ফিল্ডারদের বাজে ক্যাচিংয়ের সুযোগ নিয়ে অ্যালেন, অংকৃশ রঘুবংশী এবং ক্যামেরন গ্রিন প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন।
গুজরাট টাইটান্সের ফিল্ডিং বিপর্যয়
গুজরাট টাইটান্স তাদের ত্রয়োদশ ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে একেবারেই ছন্নছাড়া ছিল। তারা পুরো ইনিংসে অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ছেড়েছে। ফিন অ্যালেন দুবার জীবন পান, অংকৃশ রঘুবংশীকে ৫২ রানের মাথায় জীবন দেন ওয়াশিংটন সুন্দর, এবং ক্যামেরন গ্রিনকে ২৩ রানের মাথায় জীবন দেন আরশাদ খান। ফিল্ডিংয়ের এই চরম দুর্বলতা তাদের বড় রানের লক্ষ্য তাড়া করার পথে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।
অংকৃশ ও গ্রিনের রাজত্ব
অ্যালেন আউট হওয়ার পর অংকৃশ রঘুবংশী (৮২ নট আউট) এবং ক্যামেরন গ্রিন (৫২ নট আউট) হাল ধরেন। এই জুটি মাত্র ৫৩ বলে ১০৮ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ গড়ে দলের সংগ্রহকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে দেয়। কেকেআর নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে। অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি, ১৪ বলে মাত্র ১৪ রান করে ফিরে যান। অন্যদিকে, রশিদ খানের বলে সাই কিশোরের হাতে ক্যাচ দিয়ে অ্যালেন অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন।
প্লে-অফের লড়াইয়ে কেকেআর
এই ম্যাচটি কেকেআরের জন্য ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে তাদের টানা তিনটি ম্যাচ জিততেই হতো। ব্যাটিং ইউনিটের পারফরম্যান্স এক কথায় দুর্দান্ত হলেও, পাথিরানার চোট এখন দলের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বোলিং আক্রমণে পাথিরানার মতো বোলারের অভাব কতটা অনুভূত হবে, তা সময়ের অপেক্ষা। ভক্তরা এখন একটাই প্রার্থনা করছেন, পাথিরানার চোট যেন গুরুতর কিছু না হয় এবং তিনি দ্রুত মাঠে ফিরতে পারেন।
ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে ফিটনেস সমস্যার কারণে একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের এভাবে মাঠ ছাড়া সত্যিই দুঃখজনক। দেখা যাক, এই জয়ের পর কেকেআর পরবর্তী ম্যাচে নিজেদের ছন্দ ধরে রাখতে পারে কি না।
