আইপিএলের ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড বিরাট কোহলির, প্রথম ব্যাটার হিসেবে নতুন মাইলফলক
Contents
আইপিএলে বিরাটের রাজত্ব অব্যাহত
আইপিএলের ইতিহাসে বিরাট কোহলি যে সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার, তা আবারও প্রমাণিত হলো। আইপিএল ২০২৬-এর ৬১তম ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের (পিবিকেএস) বিপক্ষে ধর্মশালার এইচপিসিএ স্টেডিয়ামে নেমেছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) এই তারকা ব্যাটার। আর এই ম্যাচেই তিনি নিজের নামের পাশে যোগ করলেন একের পর এক অনন্য রেকর্ড। ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল অনেক, বিশেষ করে পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার তার অধিনায়কত্বের শততম ম্যাচটি খেলছিলেন। টসে জিতে তিনি প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিরাটের ব্যাটে ছিল অন্য পরিকল্পনা।
প্রথম ব্যাটার হিসেবে ওপেনার হিসেবে ৫৫০০ রান
ম্যাচ শুরুর আগে বিরাটের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ রান। সেই লক্ষ্য পূরণ করেই তিনি আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে কোনো একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ওপেনার হিসেবে ৫৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। যদিও শিখর ধাওয়ান বা ডেভিড ওয়ার্নারের মতো ব্যাটাররা এই রান টপকে গেছেন, কিন্তু তারা একাধিক দলের হয়ে খেলে এই কীর্তি গড়েছেন। এক ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে এই ধারাবাহিকতা বিরাটের অনন্য দক্ষতারই পরিচায়ক।
এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান
ম্যাচটিতে আরও একটি বড় রেকর্ড ভেঙেছেন কোহলি। আইপিএলের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট একটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এখন তিনি। এর আগে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে তার রেকর্ডটি ছিল সেরা, তবে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ১১৭৫ রান করে তিনি সেই রেকর্ডটিও নিজের নামে করে নিয়েছেন। পাঞ্জাবের বোলারদের ওপর তার এই আধিপত্য ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।
৯ম বারের মতো ৫০০ রানের মাইলফলক
ব্যক্তিগত রেকর্ডের খাতা আরও সমৃদ্ধ করে কোহলি আইপিএল ক্যারিয়ারের নবমবারের মতো এক মৌসুমে ৫০০ রানের গণ্ডি পার করলেন। এটি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যেকোনো ব্যাটারের জন্য সর্বোচ্চ। এই তালিকায় তার পরেই রয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার এবং কেএল রাহুল, যারা সাতবার করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি, টানা চতুর্থ মৌসুমে ৫০০ রান করার পথেও তিনি অনেকটা এগিয়ে গেছেন, যা তার দীর্ঘস্থায়ী ফর্মের প্রমাণ দেয়।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি
ধর্মশালার মাঠে বিরাট কোহলি শুরু থেকেই ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলী পাঞ্জাবের বোলারদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। দলের তরুণ ওপেনার জ্যাকব বেথেল দ্রুত উইকেট হারালেও, কোহলি অবিচল ছিলেন। তাকে সঙ্গ দিতে আসা দেবদত্ত পাডিক্কাল ২৫ বলে ৪৫ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। কোহলির স্ট্রোক প্লে এবং উইকেটের চারপাশে শট খেলার দক্ষতা মাঠের দর্শকদের জন্য ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা।
ভবিষ্যৎ ও উপসংহার
চলতি আইপিএল ২০২৬ মরসুমে বিরাট কোহলি যে ছন্দে রয়েছেন, তা আরসিবি শিবিরের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। রাজত পাটিদারের অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব সামলানো জিভেশ শর্মার নেতৃত্বে আরসিবি যে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে, তার মূল কেন্দ্রে রয়েছেন কোহলি। তার এই ফর্ম শুধু আরসিবি নয়, ক্রিকেটবিশ্বের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। আইপিএলের প্রতিটি ম্যাচে তিনি যেভাবে নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন, তাতে এটি স্পষ্ট যে বিরাটের ব্যাট থেকে আরও অনেক রেকর্ড দেখা বাকি রয়েছে। পিবিকেএস বনাম আরসিবি ম্যাচটি নিঃসন্দেহে আইপিএলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে কোহলির ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য।
