আইপিএলে প্যাট কামিন্সের নতুন মাইলফলক: ২০০ টি-টোয়েন্টি উইকেটের মালিক
Contents
আইপিএলে প্যাট কামিন্সের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
১৮ মে, সোমবার সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (এসআরএইচ) অধিনায়ক প্যাট কামিন্স আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার বলা হয়। চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি বল হাতে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন, তা আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফ দৌড়কে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। টসে জিতে সিএসকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও কামিন্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা শুরু থেকেই খেই হারিয়ে ফেলেছিল। ১০০ রান তোলার আগেই দলটি ৪টি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়।
সিএসকে টপ-অর্ডারে কামিন্সের হানা
ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই বল হাতে আক্রমণে আসেন কামিন্স। তার প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই তিনি সাজঘরে ফেরান সঞ্জু স্যামসনকে, যা ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর নিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার। তার শিকারের তালিকায় ছিলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড এবং কার্তিক শর্মার মতো ব্যাটাররা। কামিন্সের এই দুর্দান্ত স্পেল সিএসকের রানের গতি কমিয়ে দেয়, যা এসআরএইচ-এর প্লে-অফ স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে সহায়তা করছে।
২০০ টি-টোয়েন্টি উইকেটের মাইলফলক
রুতুরাজ গায়কোয়াডের উইকেটটি তুলে নেওয়ার মাধ্যমেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের ২০০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন প্যাট কামিন্স। বিশ্বের ১৩১তম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এই বিশেষ ক্লাবে প্রবেশ করলেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭১৮ উইকেট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন রশিদ খান। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের মধ্যে অ্যাডাম জাম্পা ৪১৪ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছেন। কামিন্স তার ১৭৭তম টি-টোয়েন্টি ইনিংসে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
হার্দিক পান্ডিয়াকে ছাড়িয়ে কামিন্স
শুধু ২০০ উইকেটের মাইলফলকই নয়, সিএসকের বিপক্ষে এই তিন উইকেট শিকারের মাধ্যমে কামিন্স আইপিএলের ইতিহাসে সক্রিয় অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়ে উঠেছেন। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন হার্দিক পান্ডিয়াকে। এখন পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে আইপিএলে কামিন্সের উইকেট সংখ্যা ৪২টি, যেখানে হার্দিক পান্ডিয়া ৪০টি উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। উল্লেখ্য, আইপিএলের ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ৫৭ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি এখনো কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের দখলে।
ইনজুরি কাটিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে কামিন্স
৩২ বছর বয়সী এই পেসার পিঠের ইনজুরির কারণে আইপিএল ২০২৬-এর প্রথমার্ধ মিস করেছিলেন। সেই সময় তার অনুপস্থিতিতে ইশান কিষাণ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে দলে ফেরার পর কামিন্স নিজের ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন। চলতি মৌসুমে ৬ ইনিংসে তিনি মোট ৮টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। সিএসকের বিপক্ষে ২৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়া এই পারফরম্যান্স চলতি আসরে তার সেরা বোলিং ফিগার।
পয়েন্টস টেবিলে প্রভাব
সিএসকে বনাম এসআরএইচ-এর এই লড়াই শুধুমাত্র দুই দলের জন্য নয়, বরং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং গুজরাট টাইটান্সের (জিটি) প্লে-অফ সমীকরণের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কামিন্সের এমন বিধ্বংসী ফর্ম হায়দ্রাবাদকে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাবে। ম্যাচ শেষে চেন্নাইয়ের স্কোরবোর্ড ছিল ১৭ ওভারে ১৫১/৪। কামিন্সের এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু একজন দক্ষ অধিনায়কই নন, বরং দলের প্রয়োজনে ম্যাচ উইনার হিসেবেও নিজেকে বারবার প্রমাণ করে চলেছেন। ক্রিকেট ভক্তরা এখন দেখার অপেক্ষায়, তার এই ছন্দ সামনের ম্যাচগুলোতেও বজায় থাকে কি না।
