চেন্নাইয়ের বিপক্ষে জয় উৎসর্গ করে আবেগপ্রবণ ঈশান কিষান
Contents
চেন্নাইয়ের মাঠে ঈশান কিষানের ব্যাটে জয়ের হাসি
আইপিএলের মঞ্চে চেন্নাই সুপার কিংস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের লড়াই মানেই এক বাড়তি উত্তেজনা। এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ৬৩ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের প্লে-অফের দাবি জোরালো করেছে। এই জয়ের ফলে টেবিল পয়েন্টের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে, যা পরোক্ষভাবে গুজরাট টাইটানসের প্লে-অফে ওঠার রাস্তাও সহজ করে দিয়েছে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চালচিত্র
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ের ব্যাটাররা বড় সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে নামলেও, সানরাইজার্স বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। রুতুরাজ গায়কোয়াড় (১৫), সঞ্জু স্যামসন (২৭) এবং উর্বিল প্যাটেলরা থিতু হতে ব্যর্থ হন। তবে দেওয়াল্ড ব্রেভিসের ৪৪ রানের ইনিংস এবং শিবম দুবের অবদানে চেন্নাই ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে।
ঈশান কিষানের দুরন্ত লড়াই
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সানরাইজার্সের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। ট্র্যাভিস হেড দ্রুত ফিরে গেলেও অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষান জুটি দলের ভিত মজবুত করার চেষ্টা করেন। তবে আসল মাহেন্দ্রক্ষণ আসে যখন হেনরিখ ক্লাসেন ক্রিজে যোগ দেন। ঈশান ও ক্লাসেন মিলে ৪১ বলে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ক্লাসেন ৪৭ রান করে আউট হলেও, ঈশান কিষান এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তিনি ৪৭ বলে অপরাজিত ৭০ রানের এক ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন।
আবেগঘন মুহূর্ত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়ার পর ঈশান কিষানের কণ্ঠে ছিল এক গভীর বিষাদ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির সংমিশ্রণ। তিনি জানান, এই জয়টি তিনি তার তুতো বোনকে উৎসর্গ করেছেন, যিনি কয়েক দিন আগেই মারা গেছেন। ঈশান বলেন, ‘আমার পরিবারের জন্য এটি খুব কঠিন সময় ছিল। আমার তুতো ভাই এখানে উপস্থিত ছিল। আমি শুধু তাদের জন্য ম্যাচটি শেষ করতে চেয়েছিলাম। আমি অনুভব করছিলাম যে ওপর থেকে কেউ আমাকে আশীর্বাদ করছে এবং শক্তি জোগাচ্ছে।’
কেন এই জয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
পিচের ধরণ বুঝতে পেরে ঈশান কিষান ইনিংসের শুরু থেকেই কৌশলী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘পিচটি খুব একটা সহজ ছিল না, বিশেষ করে স্পিনারদের জন্য এটি বেশ সহায়ক ছিল। আমি জানতাম, শেষ দিকে নতুন ব্যাটারদের জন্য বাউন্ডারি হাঁকানো কঠিন হবে, তাই আমি শেষ ওভার পর্যন্ত টিকে থেকে ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছিলাম।’ এই জয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে শুধু পয়েন্ট টেবিলই এগিয়ে দেয়নি, বরং দলের মনোবলকেও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্যাট কামিন্সের দল এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ঈশান কিষানের এই ইনিংসটি কেবল পরিসংখ্যানের খাতায় ৭০ রান হিসেবেই থাকবে না, বরং এটি হয়ে থাকবে শোক কাটিয়ে উঠে মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন খেলোয়াড় যখন ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দলের জয়ের কাণ্ডারি হন, তখন সেটি ক্রিকেটের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়। ক্রিকেটপ্রেমীরা ঈশানের এই মানসিক দৃঢ়তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
