বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর পাকিস্তান দলকে ধুয়ে দিলেন কামরান আকমল
Contents
পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে ক্ষুব্ধ কামরান আকমল
বাংলাদেশ সফরে গিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জা নিয়ে ঘরে ফিরেছে পাকিস্তান। এই হারের পর পাকিস্তানের ক্রিকেট আঙিনায় বইছে সমালোচনার ঝড়। সাবেক উইকেটরক্ষক কামরান আকমল সরাসরি আক্রমণ করেছেন খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কাঠামোর দিকে। তার মতে, দলের এই দৈন্যদশা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে যদি না বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়।
বাংলাদেশের কাছে দুই টেস্টে আত্মসমর্পণ
বাংলাদেশের কাছে এই সিরিজে পাকিস্তান কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। প্রথম টেস্টে ১০৪ রানে হারের পর, দ্বিতীয় টেস্টেও ৭৮ রানে হেরে সিরিজ খোয়াতে হয়েছে তাদের। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও লোয়ার অর্ডারদের অবদানে ঘুরে দাঁড়ায়। বিপরীতে, পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ছিল পুরোপুরি ব্যর্থ। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ার সেরা ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৪৩৭ রানের লিড নেয়, যার জবাবে পাকিস্তান আর লড়াইয়ে ফিরে আসতে পারেনি। তাইজুল ইসলামের ছয় উইকেট পাকিস্তানের হারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়।
খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন
কামরান আকমল তার ইউটিউব চ্যানেলে এই হার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রথমে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানান। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশ যেভাবে নিজেদের ক্রিকেটের মান ধরে রেখেছে, তার প্রশংসা করেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তান দলের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘এখন লজ্জা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমরা গত ছয়-সাত বছর ধরে একই কথা বলে আসছি, কিন্তু কিছুই বদলায়নি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) এবং জাতীয় দলের প্রতি খেলোয়াড়দের আগ্রহের বৈপরীত্য নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতে, পিএসএল চলাকালীন কোনো খেলোয়াড়কে ফিটনেস নিয়ে অভিযোগ করতে দেখা যায় না, কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হলেই ফিটনেস ইস্যু সামনে চলে আসে।
কাঠামোগত সমস্যা ও অহংবোধ
আকমলের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় সমস্যা হলো অ-ক্রিকেটারদের হস্তক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘যখন অ-ক্রিকেটারদের অহংবোধ ক্রিকেটের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলে, তখন ক্রিকেটের উন্নতি সম্ভব নয়। এখানে পারফরম্যান্সের চেয়ে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব বা সুপারিশের গুরুত্ব বেশি।’
তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের উদাহরণ টেনে বলেন, ভারতের মতো দল চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্কা রাহানে বা শিখর ধাওয়ানের মতো তারকাদেরও বাদ দিতে দ্বিধা করেনি, কারণ তারা দল ও ক্রিকেটকে সবার উপরে রাখে। অথচ পাকিস্তানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
আগামী পাঁচ বছরেও পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় কোনো উন্নতি দেখছেন না আকমল। তিনি মনে করেন, কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে এই হারের ধারা চলতেই থাকবে। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে পাকিস্তান আট নম্বরে নেমে গেছে এবং তাদের জয়ের স্বপ্ন কার্যত শেষ। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মতো কঠিন সফর রয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর থেকে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাওয়ে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি।
পরিশেষে, আকমলের মন্তব্যে স্পষ্ট যে পাকিস্তান ক্রিকেট এখন এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মেধা ও পারফরম্যান্সকে প্রাধান্য না দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
