২০২৭ বিশ্বকাপে রোহিত শর্মা না থাকলে ভারতের ওপেনিং জুটি কেমন হতে পারে?
Contents
২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও ওপেনিং সংকটের বিশ্লেষণ
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তবে এই প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বড় প্রশ্ন: রোহিত শর্মা যদি শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে না থাকেন, তবে ভারতের ওপেনিং জুটির হাল কে ধরবেন? ৩৯ বছর বয়সে রোহিতের ফিটনেস এবং দীর্ঘ টুর্নামেন্টে কাজের চাপ সামলানোর বিষয়টি এখন নির্বাচকদের ভাবনায়। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিকল্প ওপেনারদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে।
নিচে ভারতের সম্ভাব্য সেই ওপেনিং কম্বিনেশনগুলো আলোচনা করা হলো:
১. ঈশান কিষাণ ও শুভমান গিল: আক্রমণাত্মক ও ভারসাম্যপূর্ণ জুটি
রোহিতের অনুপস্থিতিতে ঈশান কিষাণ ও শুভমান গিলের জুটি হতে পারে ভারতের জন্য অন্যতম সেরা পছন্দ। তাদের মধ্যকার বাম-ডান হাতি ব্যাটারের সমন্বয় প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- ঈশানের ফর্ম: ২০২৬ আইপিএলে ১৩ ইনিংসে ৪৯০ রান এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩১৭ রান করে ঈশান নিজের জাত চিনিয়েছেন। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে তার স্ট্রাইক রেট ২০০-এর কাছাকাছি, যা ওয়ানডে ক্রিকেটের শুরুতে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করবে।
- গিলের স্থায়িত্ব: শুভমান গিল ইতিমধ্যে ভারতের ওয়ানডে ফরম্যাটের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছেন। তাদের দুজনের জুটি অতীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪৩ রানের ওপেনিং স্ট্যান্ডসহ মোট ৫৯২ রান যোগ করেছে।
২. শুভমান গিল ও রুতুরাজ গায়কোয়াড: কৌশলী ও টেকনিক্যাল জুটি
যদি নির্বাচকরা আক্রমণাত্মক মেজাজের চেয়ে কৌশলী ব্যাটারদের বেশি গুরুত্ব দেন, তবে রুতুরাজ গায়কোয়াড ও শুভমান গিলের জুটিকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। রুতুরাজ তার মার্জিত ব্যাটিং এবং চাপের মুখে ইনিংস গড়ার ক্ষমতার জন্য পরিচিত।
ঘরোয়া ক্রিকেটে বিজয় হাজারে ট্রফিতে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৫ রানের ইনিংস প্রমাণ করে যে তিনি দীর্ঘ ফরম্যাটের জন্য প্রস্তুত। এই জুটি মূলত পিচ বুঝে খেলা এবং ক্রিজে টিকে থাকার ক্ষেত্রে অসাধারণ ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।
৩. শুভমান গিল ও যশস্বী জয়সওয়ালের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ সেনসেশন যশস্বী জয়সওয়াল এবং শুভমান গিলের জুটি হতে পারে আগামীর স্বপ্ন। এই দুজন ব্যাটারই আধুনিক ক্রিকেটের পাওয়ার হিটিং এবং ক্লাসিক্যাল টাইমিংয়ের মিশেল।
যশস্বী মাত্র তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ১১৬ রানের ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তাদের ভয়ডরহীন ব্যাটিং স্টাইল ভারতকে দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে রাখবে। যদিও যশস্বীর ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা কম, তবে বিশ্ব ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করার মতো প্রতিভা তার রয়েছে।
উপসংহার
রোহিত শর্মার মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অভাব পূরণ করা সহজ নয়। তবে ভারতের হাতে বর্তমানে একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ওপেনার রয়েছে। ঈশান কিষাণের আগ্রাসন, রুতুরাজের ধৈর্য অথবা যশস্বীর নির্ভীক ব্যাটিং—নির্বাচকদের সামনে এখন অসংখ্য বিকল্প। আসন্ন ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে নির্বাচকরা কাকে বেশি সুযোগ দেবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভারতের বিশ্বকাপের পরিকল্পনা মূলত এই ওপেনিং জুটির সাফল্যের ওপরই অনেকটাই নির্ভর করছে।
ভারতীয় ক্রিকেট দলের এই পরিবর্তনের হাওয়া কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলে দেবে। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ভারতের ওয়ানডে ব্যাটিং লাইনআপ নতুন প্রজন্মের হাতে অত্যন্ত নিরাপদ।
