Cricket News

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড: তামিম ইকবালের অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়

Elena V. Kostova · · 1 min read
Share

বিসিবি অ্যাডহক কমিটির আইনি লড়াইয়ে জয়

বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কার্যক্রম পরিচালনা করতে গঠিত তামিম ইকবাল নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠেছে। ২১ মে তারিখে হাইকোর্টের এক রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই কমিটির বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশন খারিজ করা হয়েছে। আদালত কোনো জোরালো প্রমাণ বা আইনগত ভিত্তি খুঁজে না পাওয়ায় বর্তমান কমিটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পথে সব বাধা দূর হয়ে গেছে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রায়

বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এএফএম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার শুনানির পর পিটিশনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান অ্যাডহক কমিটির বিরুদ্ধে কোনো আদেশ দেওয়ার মতো যথেষ্ট যুক্তি বা মেরিট খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই রায়ের মাধ্যমে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের এই প্যানেল তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার আইনি বৈধতা পেল।

তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটির পটভূমি

চলতি বছরের ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবির জন্য এই ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবালকে এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মূলত আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ পূর্ববর্তী বোর্ডের বিরুদ্ধে নির্বাচন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর আগের বোর্ড ভেঙে দিয়ে এই অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির প্যানেলে সাবেক ক্রিকেটার, অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক, আইনি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও আতাহার আলী খানের মতো ব্যক্তিত্বরা অন্যতম। গঠনের পরপরই কমিটি বিসিবির বিভিন্ন বিভাগ—যেমন নারী ক্রিকেট, ফ্যাসিলিটিজ এবং গেম ডেভেলপমেন্টের কার্যক্রম পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে।

READ:  WTC পয়েন্ট টেবিল ২০২৬: পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ভারতকে টপকে গেল বাংলাদেশ

কেন পিটিশন করা হয়েছিল?

অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ৭ এপ্রিলের বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তটি আইনসম্মত ছিল না। আবেদনকারীরা কমিটির যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করার এবং বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছিলেন। এই মামলার বিবাদী করা হয়েছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, এনএসসি, বিসিবি এবং আইসিসি-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে এই সব আইনি চ্যালেঞ্জ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

৭ জুনের নির্বাচন ও বিসিবির নতুন পথচলা

আইনি বাধা দূর হওয়ায় এখন বিসিবির পূর্ণ মনোযোগ আসন্ন নির্বাচনের দিকে। আগামী ৭ জুন ২০২৬ তারিখে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান অ্যাডহক কমিটি এই নির্বাচনের তদারকি করবে, যা বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। মোট ১৮৪ জন নিবন্ধিত কাউন্সিলরের ভোটে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পরবর্তী ধাপে এই পরিচালকগণ এবং সরকার মনোনীত দুইজনসহ মোট ২৫ সদস্যের বোর্ড বিসিবির নতুন সভাপতি নির্বাচন করবে। তামিম ইকবাল নিজেও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে বোর্ডের রূপান্তর প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন।

নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ ও সময়সূচি

বিসিবি নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে পুরো নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। প্রবীণ আইনজীবী আহসানুল করিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিশন স্বচ্ছতার সাথে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। ১৯ মে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ২০ ও ২১ মে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। ২১ ও ২২ মে মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হয়েছে এবং ২৫ মে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। ৬ জুনের মধ্যে পোস্টাল ও ইলেকট্রনিক ব্যালট জমা নেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে, আর ওই দিন রাতেই ফলাফল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই ক্রান্তিলগ্নে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ বোর্ড গঠনই এখন সকল ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশা।

READ:  আইপিএল ২০২৬: চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ১৫৫ কিমি গতিতে ইতিহাস গড়লেন মোহাম্মদ সিরাজ
Elena V. Kostova

Cricket's leading voice in Eastern Europe and an aggressive advocate for women's cricket globally. Elena V. Kostova transitioned from playing professional softball to becoming a prominent analyst for ICC Women's events. She specializes in "women's cricket rankings," "emerging associate nations," and "grassroots development." Her passionate editorials on equal pay and broadcast coverage for women's Tests have sparked real conversations across the sport's traditional powerbases.