সিএসকে-এর অধিনায়কত্ব এবং ধোনির পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ বদ্রীনাথ
Contents
সিএসকে-এর অন্দরে অস্থিরতা: বদ্রীনাথের নিশানায় ম্যানেজমেন্ট
আইপিএলের একটি ঘটনাবহুল মরসুমের শেষে দাঁড়িয়ে চেন্নাই সুপার কিংস (CSK)। বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের অন্দরে যেন সমালোচনার ঝড়। প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার ও চেন্নাইয়ের প্রাক্তন খেলোয়াড় সুব্রামানিয়াম বদ্রীনাথ সরাসরি দলের ম্যানেজমেন্টের দিকে আঙুল তুলেছেন। বিশেষ করে মহেন্দ্র সিং ধোনির চোট সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বেশ বিরক্ত।
ধোনির চোট নিয়ে অস্পষ্টতা
আইপিএলের এই মরসুমে ধোনির অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা জল্পনা চলেছে। বদ্রীনাথের মতে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত অপেশাদারভাবে সামলানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ধোনির আসল শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ভক্তদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে কেন? ধোনি চোটের কারণে দলের সাথে আহমেদাবাদে সফরও করছেন না, অথচ এসআরএইচ-এর বিরুদ্ধে ম্যাচের সময় তাকে চেন্নাইয়ে দেখা গেছে। বদ্রীনাথের কথায়, এটি কি নিছক কোনো ব্যবসার কৌশল ছিল, নাকি দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখার নাটক? এই রহস্যময় পরিস্থিতি নিয়ে দলের স্বচ্ছতার অভাব তাকে আহত করেছে।
রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের অধিনায়কত্ব নিয়ে সংশয়
অধিনায়ক নির্বাচনের বিষয়টি নিয়েও বদ্রীনাথ বেশ সরব। তার দাবি, রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত সিদ্ধান্ত কার ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। বদ্রীনাথের মতে, ধোনি হয়তো কিছু পরামর্শ দিতে পারতেন, কিন্তু দিনশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তো ম্যানেজমেন্টেরই নেওয়ার কথা। তিনি মনে করেন, এই দায়ভার পুরোপুরি টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর বর্তায়।
জাদেজার পক্ষে ধোনির সায় ছিল?
বদ্রীনাথের সবচেয়ে বিস্ফোরক দাবি হলো, ধোনি সম্ভবত রুতুরাজের চেয়ে রবীন্দ্র জাদেজাকেই অধিনায়ক হিসেবে বেশি পছন্দ করতেন। যদিও ২০২২ সালে জাদেজার নেতৃত্বে সিএসকের শুরুটা ভালো হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত ধোনিকে আবার দায়িত্ব নিতে হয়েছিল, তবুও বদ্রীনাথের মতে, ধোনির পছন্দ অন্য কাউকে কেন্দ্র করেই ছিল। প্রসঙ্গত, এর আগে মনোজ তিওয়ারিও চেন্নাইয়ের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং সঞ্জু স্যামসনকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে দেখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
প্লে-অফের সমীকরণ এবং শেষ ম্যাচ
গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচটি সিএসকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসতে হলে তাদের বিশাল ব্যবধানে জিততে হবে। তবে শুধু জয় পেলেই প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত নয়, অন্যান্য দলের ফলাফলের ওপরও নির্ভর করতে হবে তাদের। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য এই মরসুমটি যে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, তা বদ্রীনাথের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উপসংহার
চেন্নাই সুপার কিংসের মতো একটি সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এমন বিতর্ক আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগের ধরণ নিয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের এই সমালোচনা নিঃসন্দেহে দলের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি করেছে। আগামী মরসুমে সিএসকে কীভাবে তাদের নেতৃত্ব ও দলের কাঠামো ঠিক রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
