রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের বক্তব্য: এমএস ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, সিএসকের আইপিএল ২০২৬ থেকে বিদায়
Contents
ধোনির ভবিষ্যৎ কি ঘোষণার আগে আরও এক বিদায়?
নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম, আহমেদাবাদ— আইপিএল ২০২৬-এর দ্বারপ্রান্তে এসে থমকে গেল চেন্নাই সুপার কিংস। গুজরাট টাইটান্সের কাছে ৮৯ রানের ক্লান্তিকর হারের পর তাদের প্লে অফের সমস্ত আশা নিষ্প্রাণ হয়ে গেল। এরপরেই চাপের মুখে রুতুরাজ গায়কোয়াড় মাইকে দাঁড়ালেন, এবং ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন এক মন্তব্য করলেন যা ভক্তদের হৃদয়ে বেঁধে গেল।
“সে এক বিশাল হারানো”
ম্যাচের পর গায়কোয়াড়কে জিজ্ঞাসা করা হয়— আইপিএল ২০২৭-এ কি আবার এমএস ধোনি দেখা যাবে? মুখপাটি না করে তিনি বললেন, “আমরা সবাই আগামী বছর জানতে পারব। সে আমাদের কাছে এক বিশাল হারানো ছিল। শেষ কয়েক ওভারে এসে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আগামী বছর কী হবে, কে জানে!”
গুজরাটের বিরাট ইনিংস
ম্যাচের শুরুটাই প্রতিপক্ষের পক্ষে গেল। টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন গায়কোয়াড়, কিন্তু তা ফলবতী হলো না। শুভমন গিল ও শ্রী সুধর্ষণ ঘরোয়া মাঠে জোড়া অর্ধশতক করে দলকে অপরাজিত অবস্থায় ১২৫ রানে নিয়ে গেলেন মাত্র ৭৪ বলে। গিল ৩৭ বলে ৬৪ রান করলেও, সুধর্ষণের ৫৩ বলে ৮৪ রানে ৭ চৌকো ও ৪ ছক্কা দলকে প্রচণ্ড ভরসা দিল।
৬০০০ টি-ট২০ রান এবং ২০০ ছক্কার মাইলফলক পার হন গিল। আর সুধর্ষণ লিগে পাঁচটি ক্রমাগত অর্ধশতক করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন। তিনি শুধুমাত্র বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, ডেভিড ওয়ার্নার এবং জোস বাটলার-এর পরই এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
বুটলারের ফায়ারওয়ার্কস
জোস বাটলার ইনিংসের শেষের দিকে ২৭ বলে অপরাজিত ৫৭ রান করে ছক্কা-চৌকার বন্যা ডেকে আনেন। এই অল-রাউন্ড পারফরম্যান্সে গুজরাট দলগুলির কাছে মৃত্যুদণ্ডের মতো ঘোষণা করে দেয়—ম্যাচ হারা কঠিন হবে।
চেন্নাইয়ের রান তাড়া নিরাশাজনক
২৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সানু সমসন কোনো দাগই কাটতে পারলেন না—সোনার ডাকে ছদ্মবেশীন ০ রানে ফিরলেন মোহাম্মদ সিরাজের বলে। রুতুরাজও মাত্র ১৬ রান করে আউট হন। উর্বিল পাটেলও ডাক না দিয়ে ফিরলেন ০-এ।
মাত্র ২২ রান যোগ করতে পারলেন কার্তিক শর্মা ও ম্যাট শর্ট। শর্ট ২৪ রান করে আউট হন রাবাদার হাতে। কার্তিক শর্মা ১৯ রানে ছিলেন, যখন শুভমন গিলের কাঁধ থেকে আসা গুলির মতো থ্রো তাঁকে ক্রিজ ছাড়াই শুয়ে দেয়।
দুবের ঝড়ো পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয়
শিবম দুবে আশা জাগান, ১৭ বলে ৪৭ রানের ঝোঁকানো ইনিংস খেলেন। কিন্তু রাশিদ খান তাঁকে আউট করেন, আর গিল দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে ম্যাচের দরজা লাগিয়ে দেন। শেষে রাবাডা আরও দুটি উইকেট নেন। সিরাজ, রাশিদ ও রাবাডা—প্রত্যেকেই নেন ৩টি করে উইকেট।
কি আগামীকাল?
সিএসকে আইপিএল ২০২৬ থেকে ছিটকে গেলেও দলের ভবিষ্যৎ প্রশ্নচিহ্নে ঘিরে আছে। ধোনির উপস্থিতি ছাড়া ক্রমাগত হার তারই ইঙ্গিত। চেন্নাইয়ের ভক্তদের জন্য প্রশ্ন এখন আরও বড়: কি এবারই আইপিএলে ধোনির শেষ মরসুম?
রুতুরাজের মন্তব্য কোনো প্রত্যাশা ভাঙেনি, কিন্তু গাঁথল এক সত্য—ধোনি ছাড়া এ দল অসম্পূর্ণ।
