Nicholas Pooran’s Cost Per Run For LSG In IPL 2026: আইপিএল ২০২৬-এ লখনউয়ের সবচেয়ে দামি ব্যর্থতা?
Contents
- 1 আইপিএল ২০২৬-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের ভরাডুবি
- 2 নিকোলাস পুরানের অবিশ্বাস্য চুক্তি এবং উপার্জন
- 3 পারফরম্যান্সের গ্রাফ: ২০২৫ বনাম ২০২৬
- 4 Nicholas Pooran’s Cost Per Run For LSG In IPL 2026: অঙ্কের হিসাব
- 5 ব্যর্থতার পেছনের কারণ এবং ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন
- 6 লখনউ কি ২০২৭ আইপিএল নিলামের আগে পুরানকে ছেড়ে দেবে?
- 7 উপসংহার
আইপিএল ২০২৬-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের ভরাডুবি
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) জন্য একটি দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। ঋষভ পন্তের নেতৃত্বে দলগতভাবে তারা মোটেও নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। পুরো টুর্নামেন্টে খেলা ১৪টি ম্যাচের মধ্যে লখনউ মাত্র ৪টি ম্যাচে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। ফলস্বরূপ, পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে, অর্থাৎ দশম স্থানে থেকে তাদের টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পেছনে মূল দায় ছিল তাদের ব্যাটিং লাইনাপের ধারাবাহিকতার অভাব। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের ব্যাটাররা অত্যন্ত সাধারণ মানের ক্রিকেট খেলেছেন। মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিস ছাড়া দলের আর কোনো ব্যাটারই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। বিশেষ করে দলের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস পুরানের ধারাবাহিক ব্যর্থতা লখনউকে বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
নিকোলাস পুরানের অবিশ্বাস্য চুক্তি এবং উপার্জন
নিকোলাস পুরানকে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণেই আইপিএল ২০২৫-এর মেগা নিলামের আগে লখনউ সুপার জায়ান্টস তাকে রেকর্ড মূল্যে দলে ধরে রেখেছিল। ২০২৩ সালের নিলামে লখনউ তাকে ১৬ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের রিটেনশনে তার মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২১ কোটি টাকায়।
বর্তমানে তিনি অধিনায়ক ঋষভ পন্তের (যার বার্ষিক বেতন ২৭ কোটি টাকা) পর লখনউ সুপার জায়ান্টসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত খেলোয়াড়। আইপিএল ২০২৬-এ পুরানের চুক্তি মূল্য ছিল ২১ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ম্যাচ ফি হিসেবে তিনি প্রতি ম্যাচে অতিরিক্ত ৭.৫ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। যেহেতু পুরান লখনউয়ের হয়ে সবকটি অর্থাৎ ১৪টি ম্যাচই খেলেছেন, তাই ম্যাচ ফি বাবদ তিনি মোট ১ কোটি ৫ লক্ষ (১০,৫০০,০০০) টাকা অর্জন করেছেন। ফলস্বরূপ, আইপিএল ২০২৬-এ নিকোলাস পুরানের মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৫ লক্ষ (২২০,৫০০,০০০) টাকা।
পারফরম্যান্সের গ্রাফ: ২০২৫ বনাম ২০২৬
আইপিএল ২০২৫-এ নিকোলাস পুরান লখনউয়ের ব্যাটিং লাইনাপের প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন। মিচেল মার্শ এবং এইডেন মার্করামের ওপেনিং জুটির পর তিন নম্বরে নেমে পুরান একের পর এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন। সেবার তিনি ৪৩.৬৭ গড়ে এবং ১৯৬.২৫ স্ট্রাইক রেটে মোট ৫২৪ রান করেছিলেন। যদিও সেবার লখনউ প্লে-অফে পৌঁছাতে পারেনি, তবে পুরানের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।
কিন্তু ২০২৬ সালের আইপিএলে চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। এই মরসুমে তিনি তার নামের প্রতি বিন্দুমাত্র বিচার করতে পারেননি। ১৪ ম্যাচে মাত্র ১৮ গড়ে এবং ১২৭.৮৭-এর অত্যন্ত সাধারণ স্ট্রাইক রেটে তিনি কেবল ২৩৪ রান করতে সক্ষম হন। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে খেলা ২১ বলে ৬৩ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস বাদ দিলে, পুরো টুর্নামেন্টে তার ব্যাট ছিল সম্পূর্ণ শান্ত।
Nicholas Pooran’s Cost Per Run For LSG In IPL 2026: অঙ্কের হিসাব
লখনউ সুপার জায়ান্টসের দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা পুরানের এই মরসুমের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করি, তবে খরচের হিসাবটি বেশ চমকপ্রদ। Nicholas Pooran’s Cost Per Run For LSG In IPL 2026 বের করতে আমাদের তার মোট উপার্জন এবং তার করা মোট রানের অনুপাত দেখতে হবে।
পুরান আইপিএল ২০২৬-এ মোট ২২ কোটি ৫ লক্ষ (২২০,৫০০,০০০) টাকা উপার্জনের বিপরীতে রান করেছেন মাত্র ২৩৪টি। এই হিসাবে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে পুরানের প্রতিটি রানের জন্য প্রায় ৯,৪২,৩০৮ টাকা (INR 942,308) খরচ করতে হয়েছে।
এই অঙ্কটি গত আইপিএল মরসুমের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। পরিসংখ্যানগতভাবে স্পষ্ট যে, এই বছর পুরানের ব্যাটিং দক্ষতা এবং কার্যকারিতা পূর্বের তুলনায় অর্ধেক হয়ে গেছে। লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তার পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিল, রিটার্ন বা পারফরম্যান্সের দিক থেকে তার খুব সামান্যই ফেরত পেয়েছে।
ব্যর্থতার পেছনের কারণ এবং ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন
আইপিএল ২০২৬-এ পুরানের এই ছন্দহীনতার পেছনে কিছু বাস্তব কারণও ছিল। লখনউয়ের ব্যাটিং অর্ডারে তার অবস্থান পরিবর্তন একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। গত বছর তিন নম্বরে সফল হওয়া পুরানকে এই বছর চার এবং পাঁচ নম্বরে নামতে বাধ্য করা হয়েছিল, কারণ ঋষভ পন্ত তিন নম্বর পজিশনটি নিজের করে নিয়েছিলেন। মিডল অর্ডারে নেমে পুরান নিজের স্বাভাবিক খেলাটি খেলতে পারেননি।
তাছাড়া, পুরো মরসুম জুড়ে তিনি কব্জির চোটে ভুগছিলেন। এই শারীরিক সমস্যা তার স্বাভাবিক শট খেলার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছিল। চোট এবং ব্যাটিং পজিশনের এই অদলবদল তার মানসিক আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দিয়েছিল, যার প্রতিফলন ঘটেছে তার ব্যাটিং পরিসংখ্যানে।
লখনউ কি ২০২৭ আইপিএল নিলামের আগে পুরানকে ছেড়ে দেবে?
নিকোলাস পুরানের এই হতাশাজনক মরসুমের পর ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, লখনউ সুপার জায়ান্টস কি ২০২৭ আইপিএলের আগে তাকে রিলিজ বা মুক্ত করে দেবে? তবে ভেতরের খবর অনুযায়ী, লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এখনও পুরানের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে।
পুরো মরসুমে পুরান অফ-ফর্মে থাকা সত্ত্বেও লখনউ ম্যানেজমেন্ট তাকে প্রতিটি ম্যাচে খেলিয়ে গেছে এবং সমর্থন জুগিয়েছে। ম্যানেজমেন্ট ভালো করেই জানে যে, পুরান একজন ম্যাচ উইনার এবং তার ফর্ম সাময়িক খারাপ গেলেও তিনি যেকোনো মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। চোট কাটিয়ে উঠলে এবং সঠিক পজিশনে ব্যাট করার সুযোগ পেলে তিনি আবারও লখনউয়ের ট্রাম্প কার্ড হয়ে উঠতে পারেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের আইপিএল নিলামের আগে লখনউ সুপার জায়ান্টস তাকে ধরে রাখবে।
উপসংহার
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইপিএল ২০২৬-এ নিকোলাস পুরানের পারফরম্যান্স লখনউয়ের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। প্রতিটি রানের জন্য ৯.৪২ লক্ষ টাকারও বেশি খরচ হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। তবে চোট কাটিয়ে উঠে এবং ব্যাটিং অর্ডারে পুনরায় থিতু হয়ে নিকোলাস পুরান আগামী মরসুমে এই হিসেব বদলে দেবেন, এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের।
