Players like Rohit, Inzamam: Vaibhav Sooryavanshi’s restricted growth in IPL concerns
Contents
আইপিএলের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম নিয়ে বিতর্ক
আইপিএল ২০২৬ মরসুমে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছেন তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। ১৪ ম্যাচে ৫৮৩ রান এবং ২০০-এর বেশি স্ট্রাইক রেট নিয়ে তিনি নিজেকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছেন। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক উদ্বেগের ছায়া। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার মনে করেন, এই তরুণ খেলোয়াড়ের সামগ্রিক বিকাশ ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। কারণ বৈভবকে মূলত ইমপ্যাক্ট সাব হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাকে ফিল্ডিংয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের দৃষ্টিভঙ্গি
স্পোর্টস্টারের ‘ইনসাইড এজ’ পডকাস্টে কথা বলার সময় মাঞ্জরেকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম একজন ক্রিকেটারের বিকাশের পথে বড় বাধা। তিনি অতীতে রোহিত শর্মা বা ইনজামাম-উল-হকের মতো খেলোয়াড়দের উদাহরণ টেনে বলেন, আজকের ক্রিকেট কেবল একটি নির্দিষ্ট দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকতে পারে না। মাঞ্জরেকার বলেন, ‘আমরা কি সত্যিই বৈভব সূর্যবংশীকে রোহিত শর্মার মতো কেবল একটি নির্দিষ্ট কাজে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই? একজন ক্রিকেটারের উচিত খেলার প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রাখা।’
কেন এই নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন?
মাঞ্জরেকারের মতে, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম খেলোয়াড়দের অলস করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘রোহিত শর্মা গত ম্যাচে ১৫ বলে ২২ রান করেছেন। তার অবদান কেবল ১৫ বলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তবুও তিনি পুরো ম্যাচ ফি পাচ্ছেন। আমি টাকার কথা বলছি না, কিন্তু কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সহজ উপায়ে অর্থ উপার্জন দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।’
- অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের অভাব: একজন ক্রিকেটারকে কেবল ব্যাটার বা বোলার হিসেবে দেখা উচিত নয়, ফিল্ডিংও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তবতা: ভারত ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম ছাড়াই পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে।
- সামগ্রিক বিকাশ: খেলাটি একজন খেলোয়াড়ের সব দক্ষতার পরীক্ষা নেয়, কেবল একটি নয়।
ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা
মাঞ্জরেকার বিসিসিআইকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মটি বাতিল করার আর্জি জানিয়েছেন। তার মতে, বৈভবের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ফিল্ডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো অবহেলিত রয়ে যাচ্ছে, যা তাদের ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। শিবম দুবের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বোলার না হয়েও ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে দলের সাফল্যে অবদান রাখা সম্ভব।
একজন ক্রিকেটারের কাজ কেবল মাঠে এসে ছোটখাটো ক্যামিও ইনিংস খেলে ডাগআউটে ফিরে যাওয়া নয়। মাঞ্জরেকারের মতে, ‘খেলাটি একজন খেলোয়াড়ের সব দিক পরীক্ষা করা উচিত। একজন বোলারের কেবল চার ওভার বল করাই যথেষ্ট নয়, তার ফিল্ডিং ক্ষমতাও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। ক্রিকেট কেবল একটি দক্ষতার জায়গা নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার মঞ্চ।’
উপসংহার
বৈভব সূর্যবংশীর মতো উদীয়মান তারকারা আইপিএলের এই নিয়মের জালে আটকা পড়লে ভারতের ক্রিকেটের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাঞ্জরেকারের এই বক্তব্য ক্রিকেট মহলে নতুন করে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের কেবল ব্যাটিং বা বোলিং মেশিনে পরিণত না করে, তাদের একজন পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলাই হোক লক্ষ্য।
