পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ: সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বিপাকে বাবর আজমের দল
Contents
সিলেট টেস্টে চাপে পাকিস্তান: তাসকিন-মিরাজের দাপট
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালটা ছিল বাংলাদেশের বোলারদের আধিপত্যের। প্রথম দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে পাকিস্তান ভালো অবস্থানে থাকলেও, দ্বিতীয় দিনের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দৃশ্যপট বদলে দেন। লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত পাকিস্তান ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের জবাবে পাকিস্তান এখন ১৮২ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
তাসকিন ও মেহেদীর নিয়ন্ত্রিত বোলিং
দিনের দ্বিতীয় ওভারেই তাসকিন আহমেদ সাফল্যের দেখা পান। আবদুল্লাহ ফজল তার বলে স্লিপে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর শরিফুল ইসলাম আজান আওয়াইসকে বেশ কিছু সময় চাপে রাখেন, যার সুবিধা আদায় করে নেন তাসকিন। শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এই তরুণ ব্যাটার।
এরপর বল হাতে জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি তার প্রথম ওভারেই পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে আউট করেন। মাসুদ ২১ রান করে কাভারে বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। মিরাজ এখানেই থেমে থাকেননি; কিছুক্ষণ পর সৌদ শাকিলকে সরাসরি নিজের শিকারে পরিণত করেন। শাকিলের সুইপ শট সরাসরি জমা পড়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। শাকিল মাত্র ৮ রান করতে সক্ষম হন।
বাবর আজমের লড়াই
দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন বড় বিপদের মুখে, তখন দলের হাল ধরেন বাবর আজম। ইনজুরির কারণে ঢাকা টেস্ট মিস করা বাবর আজম এই ম্যাচে বেশ সাবধানী। লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত তিনি ৩৭ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন। তার সঙ্গে ক্রিজে আছেন সালমান আঘা, যিনি ৬ রান সংগ্রহ করেছেন। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের বাকি ব্যাটারদের ওপর এখন বড় দায়িত্ব, কারণ বাংলাদেশের বোলাররা যেভাবে পিচের সুবিধা নিচ্ছেন, তাতে টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের বীরত্ব
এর আগে, বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে অলআউট হয়েছিল। দলের বিপর্যয়ের দিনে লিটন দাস ১২৬ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে তার তৃতীয় এবং ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। বাংলাদেশ যখন মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন লিটন একাই দলের হাল ধরেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ এবং শরিফুল ইসলাম। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে লিটন মূল্যবান ১৬২ রান যোগ করেন, যা বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো একটি পুঁজি এনে দেয়।
বোলিং ব্যর্থতা ও পাকিস্তানের লক্ষ্য
পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ ৪টি এবং মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি উইকেট শিকার করেন। লিটনের ১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি বাংলাদেশ বোলারদের দারুণ আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যেভাবে খেলছে, তাতে ম্যাচের মোমেন্টাম এখন স্বাগতিক বাংলাদেশের হাতেই। বাবর আজমের ব্যক্তিগত লড়াই পাকিস্তান দলকে কতটা এগিয়ে নিতে পারবে, তা দেখার জন্য দ্বিতীয় সেশনের দিকে তাকিয়ে থাকবে ক্রিকেট বিশ্ব।
সিলেটের উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনায় বাংলাদেশের বোলাররা এখন সঠিক লাইনে বল করার মাধ্যমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিচ্ছেন। পাকিস্তান যদি বড় কোনো জুটির দেখা না পায়, তবে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই তাদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে নিতে সক্ষম হবে। দিনের বাকি অংশে খেলা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
