কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ: ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে বাম্বারের লড়াই, তবুও চালকের আসনে গ্ল্যামারগন
Contents
এডবাস্টনে লড়াইয়ের গল্প
রদসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় দিনে এডবাস্টনে গ্ল্যামারগন এবং ওয়ারউইকশায়ারের মধ্যকার লড়াই জমে উঠেছে। যদিও গ্ল্যামারগন বর্তমানে ম্যাচের চালকের আসনে বসে আছে, তবে ইথান বাম্বারের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ওয়ারউইকশায়ার সমর্থকদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। দিন শেষে গ্ল্যামারগন ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান তুলেছে, যা তাদের মোট লিডকে ৩০০ রানে উন্নীত করেছে।
বাম্বারের বীরত্বপূর্ণ লড়াই
ওয়ারউইকশায়ার যখন ফলো-অনের আশঙ্কায় ছিল, তখন ইথান বাম্বার এবং জর্ডান থম্পসন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। অষ্টম উইকেটে এই জুটি মাত্র ১৩ ওভারে ৭৯ রান যোগ করে দলকে ২৫২ রানে পৌঁছে দেয়। বাম্বার ৪৮ বলে ৪৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যার ফলে স্বাগতিকরা ফলো-অন এড়াতে সক্ষম হয়। গ্ল্যামারগনের তরুণ বোলার টম নর্টন ৪৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়ারউইকশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছিলেন, কিন্তু বাম্বার ও থম্পসন দারুণভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন। জর্ডান থম্পসন তার কাউন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মাত্র ৫৮ বলে।
গ্ল্যামারগনের ওপর বাম্বারের বোলিং তোপ
প্রথম ইনিংসে ১০৮ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে গ্ল্যামারগন বড় বিপদে পড়েছিল যখন ইথান বাম্বার তার বোলিং জাদু দেখাতে শুরু করেন। বৃষ্টির কারণে বিরতির পর মাঠে নেমেই মাত্র সাত বলে ৩ উইকেট তুলে নেন এই পেসার। তিনি জাইন-উল-হাসান, কিরান কার্লসন এবং আসা ট্রাইবকে আউট করে গ্ল্যামারগনকে মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেটে পরিণত করেন। এক সময় মনে হয়েছিল ম্যাচটি সম্পূর্ণভাবে ওয়ারউইকশায়ারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। তবে সব মিলিয়ে বাম্বার ৪টি উইকেট দখল করে ম্যাচে নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন।
কলিন ইনগ্রামের দৃঢ়তা
প্রাথমিক বিপর্যয়ের পর গ্ল্যামারগনের হাল ধরেন অভিজ্ঞ কলিন ইনগ্রাম। তিনি বেন কেলওয়ের সাথে মিলে ৯২ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। কেলওয়ে সাজঘরে ফেরার পর ইনগ্রাম দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ৮১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে তিনি অবিচল ছিলেন দিন শেষ হওয়া পর্যন্ত। ইনগ্রাম অপরাজিত ৮০ রানে মাঠ ছেড়েছেন। শন ডিক্সনের সাথে তার ৮৩ রানের জুটি গ্ল্যামারগনকে জয়ের পথে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। যদিও দিনের শেষ দিকে এড বার্নার্ড ডিক্সনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন, তবে গ্ল্যামারগনের ৩০০ রানের লিড শেষ দিনে তাদেরই ফেভারিট হিসেবে রাখছে।
চতুর্থ দিনের সমীকরণ
বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও পুরো তিন দিনই খেলা হয়েছে এবং এখন গ্ল্যামারগন জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আছে। বাম্বারের আজকের পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ইংল্যান্ডের নির্বাচকদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, জেমস বন্ডের নতুন চরিত্রের সন্ধানের মতোই ওয়ারউইকশায়ারের ভক্তরা এখন শেষ দিনে একটি মিরাকলের অপেক্ষায় আছেন। তবে পরিসংখ্যান এবং পিচের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায়, গ্ল্যামারগনই চতুর্থ দিনে পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করতে পারে বলে মনে হচ্ছে। ওয়ারউইকশায়ারের বোলারদের এখন অতিমানবীয় কিছু করে দেখাতে হবে যদি তারা এই ম্যাচ থেকে ভালো ফলাফল আশা করে।
ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য শেষ দিনটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। গ্ল্যামারগনের লক্ষ্য দ্রুত রান বাড়িয়ে ইনিংস ঘোষণা করা, আর ওয়ারউইকশায়ারের লক্ষ্য হবে শেষ দিনটি ভালোভাবে কাটিয়ে অন্তত ড্র করার চেষ্টা করা। এডবাস্টনের দর্শক এখন অপেক্ষায় চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য।
