নেপালের দীপেন্দ্র সিং আইরি: এমএস ধোনির স্মৃতি মনে করালেন দুর্দান্ত এক শটে
Contents
নেপালের ক্রিকেটে ধোনি-ঝলক: দীপেন্দ্র সিং আইরির অবিশ্বাস্য শট
ক্রিকেটের মাঠে উদ্ভাবনী শট খেলার প্রবণতা নতুন কিছু নয়, তবে মাঝে মাঝে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যা দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয়। সম্প্রতি আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ টু-এর ম্যাচে নেপাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার লড়াইয়ে ঠিক এমনই এক মুহূর্ত উপহার দিলেন নেপালের তারকা অলরাউন্ডার দীপেন্দ্র সিং আইরি। তার খেলা একটি শট মুহূর্তেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিয়েছে প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির কথা।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং ব্যাটিং তান্ডব
ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেপাল দুর্দান্ত শুরু পেয়েছিল। ওপেনার কুশল ভুর্তেল এবং আসিফ শেখ ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলের ভিত তৈরি করে দেন। এরপর ঈশান পান্ডের ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস নেপালকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যায়। তবে দলের ইনিংসের শেষ দিকে মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠেন দীপেন্দ্র সিং আইরি। তিনি মাত্র ৩৬ বলে ৫৯ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল চারটি বাউন্ডারি এবং চারটি বিশাল ছক্কা।
সেই আলোচিত ‘ফ্ল্যামিঙ্গো চিপ শট’
আইরির ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি আসে যুক্তরাষ্ট্রের বোলার রুশিল উগারকরের বলে। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের একটি বলকে তিনি যেভাবে বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন, তা ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। বলটি এতটাই বাইরে ছিল যে সাধারণ ব্যাটার হয়তো সেটি ছেড়ে দিতেন এবং সেটি ওয়াইড হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু দীপেন্দ্র সেখানে ভারসাম্য বজায় রেখে এক পায়ে ভর করে ফ্ল্যামিঙ্গোর মতো ভঙ্গি করে বলটিকে কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান। এই শটটি ছিল ধোনির বিখ্যাত ‘হেলিকপ্টার’ বা ‘চিপ শট’-এর এক অনন্য সংস্করণ।
নেপালের বড় জয়
আইরির ব্যাটে ভর করে নেপাল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩১৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। পাহাড়সম এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং লাইনআপ নেপালের বোলারদের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। নেপালের হয়ে সন্দীপ লামিছানে ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ললিত রাজবংশী, দীপেন্দ্র সিং আইরি এবং গুলশান ঝা প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫ রানে গুটিয়ে যায় এবং ১২২ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় বরণ করে।
দীপেন্দ্র সিং আইরি: নেপালের ভবিষ্যৎ ধোনি?
দীপেন্দ্র সিং আইরি কেবল একজন ফিনিশার নন, তিনি নেপাল ক্রিকেটের এক নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার। এর আগেও এশিয়ান গেমসে মাত্র ৯ বলে টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যায়, তিনি ১৩৮ স্ট্রাইক রেটে ২১৮০ রান করেছেন এবং বল হাতেও নিয়েছেন ৬০টি উইকেট।
তার এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং চাপের মুখে ধোনির মতো শান্ত থেকে ম্যাচ শেষ করার ক্ষমতা তাকে নেপালের ‘এমএস ধোনি’ হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। একজন জেনুইন অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি নেপাল দলের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন। মাঠের ভেতরে তার আত্মবিশ্বাস এবং মাঠের বাইরের বিনয়ী আচরণ তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্ব এখন গভীর আগ্রহের সাথে লক্ষ্য করছে এই তরুণ প্রতিভাকে, যিনি ভবিষ্যতে আরও অনেক স্মরণীয় ইনিংস উপহার দেবেন বলে আশা করা যায়।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান অবস্থা
এই জয়ের ফলে নেপাল পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান সুসংহত করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে, তবে নেপালের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। ২৮ ম্যাচ শেষে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে নেপাল এখন টেবিলের পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। বিশ্বকাপের স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে প্রতিটি জয় তাদের জন্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
