২০২৭ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি: আফগানিস্তান সিরিজের স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন আনল ভারত
Contents
২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন পথে টিম ইন্ডিয়া
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। এই স্কোয়াডটি ঘোষণা করার পর থেকেই ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ তুর্কি যশস্বী জয়সওয়ালের জায়গায় অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইশান কিষাণের প্রত্যাবর্তন দল গঠনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ই এখন ভারতীয় দলের প্রধান লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্য পূরণে নির্বাচকরা ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দিচ্ছেন।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডের তুলনায় আফগানিস্তান সিরিজের দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট এখন এমন এক কম্বিনেশন খুঁজছে যা দীর্ঘমেয়াদে ভারতকে সাফল্য এনে দিতে পারবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল কারণগুলো কী কী।
নতুন মুখের ভিড়: সুযোগ পেলেন প্রিন্স যাদব ও হর্ষ দুবে
নতুনদের সুযোগ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া বিসিসিআই শুরু করেছে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো প্রিন্স যাদব এবং হর্ষ দুবের অন্তর্ভুক্তি। প্রিন্স যাদব তার দুর্দান্ত পেস বোলিং দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। আইপিএল ২০২৬-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ১৩ ম্যাচে ১৬ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি নির্বাচকদের নজর কাড়েন। একইসঙ্গে বিজয় হাজারে ট্রফিতেও তার বোলিং পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। অন্যদিকে, বিদর্ভের অলরাউন্ডার হর্ষ দুবে রঞ্জি ট্রফিতে ৬৯ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন। রবীন্দ্র জাদেজার অনুপস্থিতিতে তিনি এখন ভারতের নতুন অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেদের প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ইশান কিষাণের প্রত্যাবর্তন ও যশস্বী জয়সওয়ালের বাদ পড়া
এই সিরিজের সবথেকে আলোচিত বিষয় হলো ইশান কিষাণের দলে ফেরা। ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝাড়খণ্ডের হয়ে দারুণ ফর্মে থাকা ইশান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩১৭ রান করে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। তার আগ্রাসী ব্যাটিং এবং উইকেটরক্ষণের দক্ষতা দলের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, যশস্বী জয়সওয়াল ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে থাকলেও নির্বাচকরা আপাতত ইশানের versatility বা বহুমুখী প্রতিভার ওপরই বেশি ভরসা করছেন। এই সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট করে যে, টিম ম্যানেজমেন্ট বিশ্বকাপের জন্য একজন বাড়তি বোলারের সুযোগ তৈরি করতে ইশানকে একাদশে ভাবছে।
পেস আক্রমণে রদবদল: গুরনুর ব্রারের উত্থান
মোহাম্মদ সিরাজের বাদ পড়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল। নিউজিল্যান্ড সিরিজে খুব একটা সুবিধা করতে না পারায় সিরাজের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন দীর্ঘদেহী পেসার গুরনুর ব্রার। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং অতিরিক্ত বাউন্স আদায় করার ক্ষমতা বিসিসিআইয়ের নজরে এসেছে। যদিও তিনি নিয়মিত আইপিএল খেলেননি, তবে ভারত এ দলের হয়ে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই সিরিজটি তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
স্কোয়াডের গভীরতা ও লক্ষ্য
নিচে উভয় সিরিজের স্কোয়াডের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
- নিউজিল্যান্ড সিরিজ: শুভমান গিল, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, কেএল রাহুল, শ্রেয়াস আয়ার, ওয়াশিংটন সুন্দর, রবীন্দ্র জাদেজা, মোহাম্মদ সিরাজ, হর্ষিত রানা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, কুলদীপ যাদব, ঋষভ পন্ত, নীতীশ কুমার রেড্ডি, আর্শদীপ সিং এবং যশস্বী জয়সওয়াল।
- আফগানিস্তান সিরিজ: শুভমান গিল, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আয়ার, কেএল রাহুল, আর্শদীপ সিং, ইশান কিষাণ, হার্দিক পান্ডিয়া, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, প্রিন্স যাদব, গুরনুর ব্রার এবং হর্ষ দুবে।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারতীয় দল এটা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টের জন্য একটি শক্তিশালী বেঞ্চ তৈরি করতে চায়। বিশ্বকাপের আগে এই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা করা যায়। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই স্কোয়াড আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারে।
