ভুবনেশ্বর কুমারকে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের সমতুল্য মনে করছেন জশ হ্যাজলউড
Contents
ভুবনেশ্বর কুমারের বোলিং শৈলীতে মুগ্ধ হ্যাজলউড
আইপিএলের মঞ্চে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার সময় জশ হ্যাজলউড এক দারুণ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সতীর্থ মিচেল স্টার্ক এবং প্যাট কামিন্সের অভাব তিনি আর অনুভব করেন না, কারণ তার পাশে এখন রয়েছেন ভারতীয় পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। হ্যাজলউডের মতে, ভুবনেশ্বরের নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং সুইং তাকে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের পেসারদের মতোই স্বাচ্ছন্দ্য দেয়।
পার্পল ক্যাপের দৌড়ে ভুবনেশ্বর
চলতি আইপিএল মৌসুমে ভুবনেশ্বর কুমার দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। ১২টি ম্যাচে ২২টি উইকেট নিয়ে তিনি এই মুহূর্তে পার্পল ক্যাপের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে নতুন বলে তার বোলিং আক্রমণ প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য এক ত্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হ্যাজলউড মনে করেন, ফ্ল্যাট উইকেটেও ভুবনেশ্বরের বোলিং নিয়ন্ত্রণ তাদের বোলিং আক্রমণকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বোলিং জুটির ভারসাম্য
হ্যাজলউড এবং ভুবনেশ্বরের জুটি চলতি মৌসুমে আরসিবি-র জন্য সবচেয়ে সফল অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। হ্যাজলউড নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘প্যাট কামিন্স ও স্টার্কের সাথে বোলিং করার অভিজ্ঞতার সাথে ভুবির তুলনা চলে। ভুবনেশ্বর সাধারণত বলকে বেশি সুইং করায় এবং একটু উপরের দিকে পিচ করে। অন্যদিকে, আমি সিম ব্যবহার করে অতিরিক্ত বাউন্স আদায় করে নিতে পছন্দ করি। আমাদের এই বৈচিত্র্যই বোলিং লাইনআপকে শক্তিশালী করে তোলে।’
চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা
একজন বোলার হিসেবে চাপের মুহূর্তে কীভাবে পারফর্ম করতে হয়, তা নিয়ে হ্যাজলউডের দর্শন অত্যন্ত গভীর। তিনি মনে করেন, ব্যাটারদের আধিপত্যের দিনেও বোলারদের ধৈর্য হারানো উচিত নয়। হ্যাজলউড বলেন, ‘ফ্ল্যাট উইকেটে যদি আপনি রান কম দেন, তবে তা তৃপ্তিদায়ক। কিন্তু প্রথম ওভারে ২০ রান খরচ করার পরও যদি ইয়র্কার বা গতির বৈচিত্র্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ভালো ফিগার নিয়ে ফিরতে পারেন, তবে সেই লড়াইটাই একজন বোলার হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে গর্বের।’
আরসিবি-র বোলিং বৈচিত্র্য
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বর্তমান বোলিং ভারসাম্য নিয়েও হ্যাজলউড বেশ সন্তুষ্ট। তিনি দলের বোলিং আক্রমণের বিভিন্ন বিকল্পের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের দলে রাসিখ সালাম বাঁহাতি অ্যাঙ্গেল তৈরি করছেন, আবার আমাদের কাছে লেগস্পিনার ও বাঁহাতি স্পিনারও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার দলের মতো আমাদের কাছেও প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য সঠিক অস্ত্র মজুদ আছে। যখন আপনার কাছে বিভিন্ন শৈলীর বোলার থাকে, তখন ব্যাটারদের পক্ষে সেটেল হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’
উপসংহার
জশ হ্যাজলউডের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে আইপিএলের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে কেবল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, বরং বোলিং জুটির বোঝাপড়া এবং দলের সামগ্রিক ভারসাম্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভুবনেশ্বর কুমার এবং হ্যাজলউডের এই জুটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি উপভোগ্য দৃশ্য উপহার দিচ্ছে এবং আরসিবি-র সাফল্যের জন্য এটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। হ্যাজলউড তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে যেভাবে তরুণ ও অভিজ্ঞদের সাথে মানিয়ে নিচ্ছেন, তা বর্তমান আরসিবি স্কোয়াডের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।
টিম কম্বিনেশন কেন জরুরি?
- বৈচিত্র্যময় আক্রমণ: একই ধরনের বোলার থাকলে ব্যাটাররা সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।
- অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ: হ্যাজলউডের মতো অভিজ্ঞদের উপস্থিতিতে জুনিয়ররা দ্রুত শিখতে পারে।
- কৌশলগত নমনীয়তা: বিভিন্ন পিচে স্পিনার ও পেসারদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
এই ধরণের কৌশলগত বোলিং আরসিবিকে আইপিএলের প্লে-অফ দৌড়ে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। সামনের ম্যাচগুলোতেও এই জুটি তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলেই ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারণা।
