জশ হ্যাজলউড: আরসিবির পরিবেশ যেন অস্ট্রেলিয়া দলের মতোই
Contents
আরসিবির সাফল্যের নেপথ্যে হ্যাজলউড ও ভুবনেশ্বর জুটি
আইপিএলের ২০২৫ মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর (আরসিবি) হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান পেসার জশ হ্যাজলউড। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে শিরোপা জয়ের স্বাদ পাওয়া এই পেসার এখন আরসিবির পেস বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা। দলের সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে তিনি ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়াকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে আরসিবির মিল
হ্যাজলউড মনে করেন, আরসিবিতে খেলার অনুভূতি অনেকটাই অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের মতো। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রতিটি বিভাগ নিখুঁতভাবে সাজানো। ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতার খেলোয়াড় থাকায় প্রতিপক্ষের জন্য আমাদের মোকাবিলা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।’ ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার মনে করেন, আরসিবির বর্তমান স্কোয়াড ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।
ভুবনেশ্বর কুমারের সাথে বোলিং জুটি
চলতি মৌসুমে ভুবনেশ্বর কুমারের সাথে হ্যাজলউডের জুটি ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। হ্যাজলউড ভুবনেশ্বরের প্রশংসায় বলেন, ‘ভুবনেশ্বরের সাথে বোলিং করাটা অনেকটা প্যাট কামিন্স বা মিচেল স্টার্কের সাথে বোলিং করার মতো। ও বল সুইং করাতে ওস্তাদ, আর আমি সিম পজিশন ঠিক রেখে বাউন্স আদায় করতে ভালোবাসি। আমাদের এই ভিন্নধর্মী বোলিং স্টাইল প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।’ উল্লেখ্য, ভুবনেশ্বর কুমার এখন পর্যন্ত ২২টি উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন এবং হ্যাজলউড নিয়েছেন ১১টি উইকেট।
বোলিং ইউনিটের সামগ্রিক পারফরম্যান্স
আরসিবির বোলিং আক্রমণ শুধু হ্যাজলউড ও ভুবনেশ্বরের ওপর নির্ভরশীল নয়। দলের অন্যান্য বোলাররাও সমানতালে অবদান রাখছেন। কুইউই পেসার জ্যাকব ডাফি সুযোগ পেলেই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করছেন। এছাড়া তরুণ পেসার রাসিখ সালাম দার ডেথ ওভারে স্লোয়ার বলের ব্যবহারে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছেন। স্পিন বিভাগে ক্রুনাল পান্ডিয়া ১০টি উইকেট এবং সুয়াশ শর্মা ৭টি উইকেট নিয়ে দলকে দারুণভাবে সহায়তা করছেন। রোমারিও শেফার্ড ও ডাফিও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে অবদান রাখছেন।
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচটি সেরা
প্লে-অফের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা আরসিবির এই মৌসুমে প্রিয় মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে হ্যাজলউড দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচটির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘দিল্লির বিপক্ষে ম্যাচটি আমার কাছে সেরা মনে হয়েছে। যখন সবকিছু আপনার পরিকল্পনামতো হয় এবং আপনি ও ভুবনেশ্বর দারুণ বোলিং করেন, তখন সেটি বেশ তৃপ্তিদায়ক। অনেক রান খরচ করার পরেও যেভাবে আমরা ইয়র্কার এবং স্লোয়ারের সাহায্যে ম্যাচে ফিরে এসেছিলাম, তা সত্যিই গর্বের।’
উপসংহার
রজত পাতিদারের নেতৃত্বে আরসিবি যেভাবে খেলছে, তাতে এটি স্পষ্ট যে তারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে প্রস্তুত। অভিজ্ঞ হ্যাজলউডের মতো বোলার এবং ভুবনেশ্বরের মতো অভিজ্ঞ পেসারের সংমিশ্রণ আরসিবিকে এই মৌসুমে আরও শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে তুলেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকিয়ে থাকবে তাদের আসন্ন ম্যাচগুলোর দিকে, যেখানে তারা প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে মরিয়া।
