IPL 2026: অম্বতি রাইডুর চোখে কার্তিক শর্মা একজন পরিপূর্ণ মিডল-অর্ডার ব্যাটার
Contents
কার্তিক শর্মার উত্থান: আইপিএলের নতুন সেনসেশন
আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) যখন তরুণ ব্যাটার কার্তিক শর্মার জন্য ১৪.২ কোটি টাকা খরচ করেছিল, তখন অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই বিনিয়োগের সার্থকতা প্রমাণ করছেন এই তরুণ তুর্কি। বিশেষ করে ১৫ মে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) বিপক্ষে একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাঁর ব্যাটিং প্রদর্শনী ছিল চোখে পড়ার মতো।
চাপের মুখে কার্তিকের ধৈর্য
সেই ম্যাচে লখনউয়ের মাটিতে সিএসকে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। ষষ্ঠ ওভারের মধ্যেই মাত্র ৩৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল চেন্নাই। উরভিল প্যাটেল দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর দলের ওপর চাপের পাহাড় জমেছিল। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে কার্তিক শর্মা যে পরিপক্কতা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে ব্যাট করলেও, পরিস্থিতির দাবি বুঝে তিনি নিজেকে মানিয়ে নেন। ২৬ বলে ২৯ রান করার পর যখন তিনি পিচে থিতু হন, তখন লখনউয়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় তোলেন। পরবর্তী ১৬ বলে তিনি ৪২ রান তুলে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৭১ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন তিনি, যেখানে ছিল ৬টি বিশাল ছক্কা ও ৫টি চার। যদিও সেই ম্যাচে জয় আসেনি, তবে কার্তিকের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।
অম্বতি রাইডুর প্রশংসা
প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার অম্বতি রাইডু কার্তিকের ব্যাটিংয়ে এতটাই মুগ্ধ যে, তিনি তাঁকে ভবিষ্যতের ‘কমপ্লিট মিডল-অর্ডার ব্যাটার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। রাইডু বলেন, ‘আমি মনে করি কার্তিকের প্রস্তুতি ছিল নিখুঁত। লখনউয়ের মতো শক্তিশালী ফাস্ট বোলিং ইউনিটের বিরুদ্ধে শর্ট বল মোকাবিলা করার জন্য সে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। স্পিনের বিরুদ্ধেও তার শট নির্বাচন ছিল অসাধারণ।’
কেন কার্তিক স্পেশাল?
রাইডুর মতে, কার্তিক একজন দ্রুত শিখতে পারা ক্রিকেটার। তিনি আরও যোগ করেন, ‘কার্তিক দ্রুত পিচের ধরন বুঝে নিতে পারে। সে জানে কখন আক্রমণ করতে হয় আর কখন ধৈর্য ধরতে হয়। একজন তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলের মতো মঞ্চে চাপের মুখে ৬ বা ৭ নম্বরে ব্যাট করা মোটেও সহজ কাজ নয়। অথচ সে যখন থেকে ৪ বা ৫ নম্বরে সুযোগ পাচ্ছে, তখন থেকেই তার ব্যাটিংয়ে এক অন্যরকম স্বাচ্ছন্দ্য দেখা যাচ্ছে।’
স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমালোচনার উত্তর
আইপিএল ২০২৬-এ এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ৩৪.৮৫ গড়ে ২৪৪ রান করেছেন কার্তিক। তাঁর স্ট্রাইক রেট (১৩৪.০৬) নিয়ে কিছুটা গুঞ্জন থাকলেও, অম্বতি রাইডু মনে করেন এটি মোটেও উদ্বেগের বিষয় নয়। রাইডু ব্যাখ্যা করেছেন, ‘সে মাত্র তার অভিষেক আইপিএল মৌসুম কাটাচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে অভিজ্ঞতা বাড়লে তার স্ট্রাইক রেট আরও উন্নত হবে। এখন সে শিখছে, আর এই শিক্ষা তাকে ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে গড়ে তুলবে।’
ভবিষ্যতের পথচলা
কার্তিক শর্মা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, তিনি শুধুমাত্র আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই করতে পারেন না, বরং ইনিংস গড়তেও সমান দক্ষ। স্পিনার এবং ফাস্ট বোলার—উভয়ের বিরুদ্ধেই ছক্কা হাঁকানোর সামর্থ্য তাঁর রয়েছে। সিএসকে ম্যানেজমেন্ট এবং অম্বতি রাইডুর মতো বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভারতীয় কন্ডিশনে কার্তিক শর্মা হয়ে উঠতে পারেন মিডল-অর্ডারের অন্যতম প্রধান ভরসা।
একজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য আইপিএলের এই যাত্রা কেবল শুরু। অভিজ্ঞতার সাথে সাথে কার্তিকের ফুটওয়ার্ক, শট সিলেকশন এবং পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা আরও উন্নত হবে, যা তাঁকে বিশ্বমানের ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে। সিএসকে-র এই নতুন আবিষ্কারকে ঘিরে এখন ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে।
