Mike Hesson breaks silence on Pakistan’s decision to drop Mohammad Rizwan from O
Contents
পাকিস্তানের ওডিআই দলে পরিবর্তনের নেপথ্যে মাইক হেসন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের আগে পাকিস্তান ক্রিকেটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের বাদ পড়া। দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।
দলের পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন
মাইক হেসন জানিয়েছেন যে, গত ১২ মাসে ওডিআই ফরম্যাটে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সই মূলত নেতৃত্বের পরিবর্তনের মূল কারণ। হেসনের ভাষ্যমতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর দলের চিত্র বদলানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিই, তখন দুটি বিষয় মাথায় রাখি—ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স। দুর্ভাগ্যবশত, গত ১২ মাসে আমরা খুব কম ম্যাচ জিততে পেরেছিলাম, তাই নেতৃত্বের জায়গা থেকে পরিবর্তন আনা জরুরি ছিল।’
রিজওয়ান এর আগে পাকিস্তান দলকে অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জেতালেও, বর্তমান ম্যানেজমেন্ট নতুন আঙ্গিকে দল সাজাতে চাচ্ছে। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ওডিআই অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সেই পরিকল্পনারই অংশ।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বিশ্বকাপের লক্ষ্য
১৮ মাস পর অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী ওডিআই বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। হেসন ব্যাখ্যা করেন, ‘আমাদের হাতে ১৮ মাস সময় আছে। বিশ্বকাপের আগে নতুন ক্রিকেটারদের যাচাই করা এবং বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করে দেখা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশ সিরিজের সময় থেকেই আমরা নতুনদের সুযোগ দিচ্ছি এবং সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।’
কোচের মতে, দলের প্রতিটি সদস্যকে তাদের ফিটনেস এবং সামর্থ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হচ্ছে, যাতে টুর্নামেন্টের সময় সেরা স্কোয়াডটি মাঠে নামানো যায়।
সালমান আলী আগার ভূমিকা
দলের ভাইস-ক্যাপ্টেন বা সহ-অধিনায়কের পদ নিয়ে চলা গুঞ্জন নিয়েও মুখ খুলেছেন হেসন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সালমান আলী আঘা গত পাঁচটি সফরে নিয়মিত সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমে কোনো বড় ঘোষণা দেওয়া হয়নি, কিন্তু দলের ভেতরের কাঠামোতে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। হেসনের মতে, সালমানের অভিজ্ঞতা দলের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
সিরিজের展望 এবং প্রত্যাশা
আগামী ৩০ মে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তান ওডিআই সিরিজের দিকে এখন নজর সবার। স্বাগতিক দল সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সিরিজের পরাজয়ের স্মৃতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। বাবর আজমের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ওপর দলের ভরসা এখন তুঙ্গে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে পাকিস্তান কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
উপসংহার
মাইক হেসনের এই বক্তব্য পরিষ্কার করে দেয় যে, পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখন আবেগের চেয়ে পেশাদারিত্ব এবং কৌশলের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া কঠিন হলেও, দলের বৃহত্তর স্বার্থে এই ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন কোচ। এখন দেখার অপেক্ষা, এই নতুন পরিকল্পনা এবং স্কোয়াড অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কতটা সফল হয়। ক্রিকেট বিশ্বের চোখ এখন রাওয়ালপিন্ডির দিকে, যেখানে নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের ওডিআই ক্রিকেটে।
দলের অন্যান্য সদস্য এবং সাপোর্ট স্টাফরা নতুন এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং আশা করা হচ্ছে যে, আসন্ন সিরিজগুলোতে পাকিস্তান তাদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারবে। হেসনের অধীনে দীর্ঘমেয়াদী এই রূপান্তর কতটুকু টেকসই হয়, তা সময়ই বলে দেবে।
