আইপিএল ২০২৬: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স যে খেলোয়াড়দের দল থেকে বাদ দিতে পারে
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যর্থতার গ্লানি ও ভবিষ্যতের পুনর্গঠন
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পারফরম্যান্স যে তাদের ঐতিহ্যের সাথে মানানসই নয়, তা ক্রিকেটপ্রেমী মাত্রই জানেন। ১১টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩টিতে জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে থাকা দলটি ইতিমধ্যে প্লে-অফের লড়াই থেকে বিদায় নিয়েছে। গত বছর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করলেও, এবার সেই প্রত্যাবর্তনের গল্প আর লেখা হয়নি।
মুম্বাইয়ের এই ভরাডুবির পেছনে বড় কারণ হলো তাদের মূল খেলোয়াড়দের ফর্মহীনতা। রোহিত শর্মা কিছুটা লড়াই করলেও, অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া, সূর্যকুমার যাদব কিংবা জসপ্রীত বুমরাহ—কেউই তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তিলক ভার্মার মতো তরুণ তুর্কিরাও ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগেছেন। এমতাবস্থায়, আগামী মৌসুমের জন্য দলকে নতুন করে সাজাতে বড় ধরনের রদবদল অনিবার্য।
যেসব খেলোয়াড়দের বিদায় ঘণ্টা বাজতে পারে
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের পরবর্তী মিশনের জন্য বেশ কিছু খেলোয়াড়কে ছেঁটে ফেলতে পারে, যাদের পারফরম্যান্স এই মৌসুমে আশানুরূপ ছিল না:
- রবিন মিঞ্জ: ঝাড়খণ্ডের এই উইকেটকিপার গত দুই মৌসুমে মুম্বাইয়ের হয়ে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলে কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনের উপস্থিতিতে মিঞ্জের জায়গা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
- শেরফেন রাদারফোর্ড: গুজরাট টাইটানস থেকে ট্রেড করে আনা এই ব্যাটার মাত্র একটি ইনিংস ছাড়া পুরো মৌসুমে হতাশ করেছেন। উইল জ্যাকসের আগমনে তার প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে।
- দানিশ মালেওয়ার: ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করলেও আইপিএলের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি এই তরুণ ব্যাটার। নামান ধীর ও তিলক ভার্মার উপস্থিতিতে তার বাদ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
- দীপক চাহার: ৯.২৫ কোটি রুপির বিনিময়ে দলে এলেও চোট ও ফর্মহীনতা তাকে নিয়মিত পারফর্ম করতে দেয়নি। দলের বোলিং লাইনআপে তরুণদের প্রাধান্য দিতে তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে এমআই ম্যানেজমেন্ট।
- মায়াঙ্ক মার্কান্ডে: স্পিন বোলিংয়ের দুর্বলতা দূর করতে তাকে দলে নিলেও তিনি উল্টো রান বিলিয়েছেন। আরসিবির বিপক্ষে এক ম্যাচে ৪০ রান খরচ করা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে স্মৃতি হয়ে থাকবে।
- শার্দুল ঠাকুর: শুরুর দিকে ভালো করলেও ইকোনমি রেট ১৩-এর উপরে থাকায় শার্দুলের ওপর আস্থা হারানোটা স্বাভাবিক। তরুণদের সুযোগ দিতে তাকেও বিদায় জানানো হতে পারে।
- কেশব মহারাজ: মিচেল স্যান্টনারের বদলি হিসেবে দলে এলেও মূল একাদশে জায়গা পাননি এই প্রোটিয়া স্পিনার। বিদেশী কোটা পূর্ণ হওয়ায় তাকে রিলিজ করাই এখন মুম্বাইয়ের লক্ষ্য।
উপসংহার
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য ২০২০ সালের পর থেকে আইপিএল শিরোপা অধরা রয়ে গেছে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের এই দৈন্যদশা দূর করতে হলে আগামী নিলামে এবং খেলোয়াড় ধরে রাখার ক্ষেত্রে সাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে। কেবল দলের ভারসাম্য নয়, বরং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করাই হতে পারে মুম্বাইয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর মূলমন্ত্র। ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর থাকবে আগামী মৌসুমের রিটেনশন তালিকার দিকে, যেখানে বড় চমক দেখার অপেক্ষায় থাকবে সমর্থকরা।
