সিলেট টেস্ট: বাংলাদেশের বোলারদের পাল্টা জবাব দিলেন মাসুদ ও বাবর
Contents
সিলেট টেস্ট: মাসুদ ও বাবরের লড়াইয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা পাকিস্তানের
সিলেট টেস্টের চতুর্থ সকালে রোমাঞ্চকর লড়াই দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। বাংলাদেশের দেওয়া বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও, দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শান মাসুদ এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার বাবর আজম। তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে সফরকারীরা।
শুরুতেই বাংলাদেশের আঘাত
চতুর্থ দিনের সকালে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য ছিল দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া। নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে সেই আশা পূরণও হয়। আবদুল্লাহ ফজল ও আজান ওয়াইস প্রথম আধঘণ্টা টিকে থাকার চেষ্টা করলেও রান রেট ছিল খুবই ধীর। এক পর্যায়ে নাহিদ রানার একটি শর্ট বলে ফজল গালিতে ক্যাচ তুলে দিলে প্রথম ধাক্কা খায় পাকিস্তান। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজ আঘাত হানেন আজান ওয়াইসের ওপর। মিরাজের সোজা বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই তরুণ ওপেনার। রিভিউ নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।
মাসুদ ও বাবরের পাল্টা আক্রমণ
দুই উইকেট হারানোর পর পাকিস্তান যখন চাপে, তখন দলের হাল ধরেন মাসুদ ও বাবর। তারা রক্ষণাত্মক না হয়ে বরং আক্রমণাত্মক খেলার সিদ্ধান্ত নেন। ক্রিজে এসেই বাবর প্রথম বলে স্লিপের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। অন্যদিকে, শান মাসুদ প্রথম দিকে কিছুটা রক্ষণাত্মক থাকলেও পরে তাশকিন আহমেদের ওপর চড়াও হন। তাশকিনের বলে দারুণ টাইমিংয়ে তিনি তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেন।
অর্ধশত রানের জুটি
মাসুদ ও বাবর মিলে খুব দ্রুত রানের চাকা সচল রাখেন। বিশেষ করে মিরাজের বলে অফসাইডের ফাঁক দিয়ে দারুণ সব শট খেলেন মাসুদ। অন্যদিকে, তাইজুল ইসলামের বলে ব্যাকফুটে গিয়ে বাউন্ডারি মেরে বাবর আজম তাদের পঞ্চাশ রানের জুটি পূরণ করেন। শেষ ছয় ওভারে তারা ৪৬ রান যোগ করে দলকে একশ রানের কোটায় নিয়ে যান। তবে এই জুটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে।
ম্যাচের বর্তমান প্রেক্ষাপট
পাকিস্তানকে জিততে হলে আরও অনেক বড় ইনিংস খেলতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, তারা ৩৩৬ রানে পিছিয়ে আছে। যদিও মাসুদ ও বাবরের এই জুটি দলের ভেতরে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে, কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে টিকে থাকাটা বড় চ্যালেঞ্জ। দিনের বাকি অংশে উইকেট ধরে রেখে রান তোলাই হবে পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে, বাংলাদেশ চাইবে দ্রুত ব্রেক-থ্রু পেতে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে। সিলেট টেস্ট এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে প্রতিটি সেশনই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও রোমাঞ্চকর কিছু মুহূর্ত। পাকিস্তান কি পারবে এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ইতিহাস গড়তে, নাকি বাংলাদেশ তাদের জয় নিশ্চিত করবে? উত্তর মিলবে পরবর্তী সেশনগুলোতে।
