বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় টেস্ট ২০২৬: পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ ও দলীয় বিশ্লেষণ
Contents
সিরিজ বাঁচানোর লড়াই: সিলেটে পাকিস্তানের অগ্নিপরীক্ষা
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি ছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের একচ্ছত্র আধিপত্যের গল্প। ঢাকার মাটিতে সফরকারী পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল টাইগাররা। আগামী ১৬ মে থেকে সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের সামনে এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা। রাত ৯টায় (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে পাকিস্তান যদি জিততে না পারে, তবে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা নিয়ে তাদের ফিরতে হবে।
প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং ইউনিট বাংলাদেশের স্পিন ও পেস আক্রমণের সামনে কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। আজান আওয়াইস বা আবদুল্লাহ ফজলের মতো তরুণরা কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সিনিয়র ক্রিকেটারদের ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অধিনায়ক শান মাসুদ, সৌদ শাকিল এবং ইমাম-উল-হকের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অ্যাপ্রোচ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সিরিজ ড্র করে নিজেদের সম্মান রক্ষা করতে হলে পাকিস্তানকে তাদের সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে হবে।
শীর্ষক্রম: তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ
পাকিস্তানের টপ অর্ডারে তরুণ তুর্কি আজান আওয়াইস নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিটি ছিল পাকিস্তানের জন্য একমাত্র উজ্জ্বল দিক। তার সাথে ওপেনিংয়ে অভিজ্ঞ ইমাম-উল-হক-এর থাকার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও ইমামের সাম্প্রতিক ফর্ম খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়, তবুও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো আরেকবার তার ওপর ভরসা রাখবে।
তিন নম্বর পজিশনে আবদুল্লাহ ফজল-এর খেলা প্রায় নিশ্চিত। আগের টেস্টের দুই ইনিংসে ১২৬ রান সংগ্রহ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে তিনি দলের হাল ধরার সক্ষমতা রাখেন। তবে সবচেয়ে বড় খবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরতে পারেন মহাতারকা বাবর আজম। হাঁটুর চোটের কারণে প্রথম টেস্ট মিস করা বাবর চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করবেন বলে জানা গেছে। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবরের অন্তর্ভুক্তিতে দলীয় ভারসাম্য যেমন বাড়বে, তেমনি ড্রেসিংরুমের মনোবলও চাঙা হবে। বাবরের আগমনে বাদ পড়তে পারেন সৌদ শাকিল, যিনি ঢাকা টেস্টে মাত্র ১৫ রান করে হতাশ করেছিলেন।
মিডল অর্ডার এবং অলরাউন্ডারদের ভূমিকা
অধিনায়ক শান মাসুদ সম্ভবত পাঁচ নম্বর পজিশনেই ব্যাটিং চালিয়ে যাবেন। প্রথম টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ১১ রান করা শান মাসুদের জন্য এই ম্যাচটি নিজের সামর্থ্য প্রমাণের শেষ সুযোগ হতে পারে। তার সাথে মিডল অর্ডারের মূল স্তম্ভ হিসেবে থাকবেন উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। আগের ম্যাচে রিজওয়ানের ৫৯ রানের লড়াকু ইনিংসটি ছিল পাকিস্তানের ইনিংস পুনর্গঠনের অন্যতম কারিগর।
ছয় বা সাত নম্বরে সালমান আলী আগা-এর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং পাকিস্তানের জন্য তুরুপের তাস হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ঘূর্ণি পিচে স্পিনারদের ছন্দ নষ্ট করতে সালমানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে একাদশে একটি কৌশলগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা প্রবল। নোমান আলীর পরিবর্তে অলরাউন্ডার সাজিদ খান-কে দেখা যেতে পারে। যেহেতু পাকিস্তানের ব্যাটাররা বাংলাদেশের মাটিতে রান তুলতে হিমশিম খাচ্ছে, তাই সাজিদ খানের মতো একজন কার্যকর লোয়ার-অর্ডার ব্যাটার অন্তর্ভুক্ত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সাজিদ কেবল ব্যাটে নয়, তার অফ-স্পিন দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারদর্শী।
বোলিং বিভাগ: পেস অ্যাটাকের ধার
বোলিং বিভাগে পাকিস্তান তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে প্রথম টেস্টেই। শাহীন শাহ আফ্রিদি যথারীতি দলের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন। প্রথম টেস্টে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের ছন্দে থাকার প্রমাণ দিয়েছেন। তার সাথে থাকছেন অভিজ্ঞ হাসান আলী এবং মোহাম্মদ আব্বাস। হাসান আলী তার রিভার্স সুইং দিয়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারকে বিপদে ফেলার ক্ষমতা রাখেন, যা তিনি আগের ম্যাচেও করে দেখিয়েছেন ৪ উইকেট শিকারের মাধ্যমে।
অন্যদিকে, মোহাম্মদ আব্বাস ৫ উইকেট নিয়ে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন। সিলেটের পিচ যদি পেস সহায়ক হয়, তবে এই তিন পেসারই একাদশে থাকবেন। তবে সিলেটে যদি স্পিন ফ্রেন্ডলি ট্র্যাক দেখা যায়, তবে হয়তো মোহাম্মদ আব্বাসকে বিশ্রামে রেখে নোমান আলীকে পুনরায় একাদশে রাখা হতে পারে, যাতে পাকিস্তান দুই পেসার এবং দুই স্পিনারের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ (Predicted Playing XI):
- আজান আওয়াইস
- ইমাম-উল-হক
- আবদুল্লাহ ফজল
- বাবর আজম
- শান মাসুদ (অধিনায়ক)
- মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার)
- সালমান আলী আগা
- সাজিদ খান
- শাহীন আফ্রিদি
- হাসান আলী
- মোহাম্মদ আব্বাস
সিলেটের এই লড়াই পাকিস্তানের জন্য কেবল একটি সিরিজ রক্ষার ম্যাচ নয়, বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের কথা বিবেচনা করলে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবর আজমের ফেরা পাকিস্তানকে কতটা স্বস্তি দেয় এবং বাংলাদেশের স্পিন বিষের মোকাবিলা তারা কীভাবে করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
