নেদারল্যান্ডস ক্রিকেটে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
Contents
নেদারল্যান্ডস ক্রিকেটে ভারতীয় সংযোগের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশ সফরের অংশ হিসেবে নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রবাসীদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই অনুষ্ঠানে ডাচ ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং সেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের অসাধারণ ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্রীড়া সম্পর্কের এই বহিঃপ্রকাশ বিশ্ব ক্রীড়ামহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ক্রিকেটের ময়দানে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের দাপট
প্রধানমন্ত্রী মোদী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, ডাচ ক্রিকেটের বর্তমান সাফল্যের পেছনে ভারতীয় শিকড় থাকা খেলোয়াড়দের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটে ভারতীয় সম্প্রদায়ের বড় রকমের অবদান রয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস দলের পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধেও তারা যেভাবে লড়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
বিশেষভাবে নজর কাড়েন তরুণ অফ-স্পিনার আরিয়ান দত্ত। প্রধানমন্ত্রী তার নাম উচ্চারণ করে বলেন, যখন দেখি আরিয়ান দত্তের মতো তরুণরা ক্রিকেটে ভালো অবদান রাখছে, তখন সেটি আমাদের সকলের জন্যই অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।
নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলে ভারতীয় শিকড়
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই প্রশংসা অমূলক নয়। গত কয়েক বছরে নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দল এক আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন পাঞ্জাব ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে যাওয়া খেলোয়াড়রা:
- আরিয়ান দত্ত: হেগে জন্মগ্রহণ করা এই স্পিনারের শেকড় পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে। তিনি বর্তমানে ডাচ স্পিন আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা।
- বিক্রমজিৎ সিং: পাঞ্জাবের চিমা খুর্দ থেকে যাওয়া এই ব্যাটার মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ডাচ সিনিয়র দলে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
- অনিল তেজা: অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া থেকে আসা এই মিডল অর্ডার ব্যাটার নিজের ধৈর্যশীল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন।
বিশ্বকাপ ও লড়াইয়ের মানসিকতা
নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বমঞ্চে যেভাবে নিজেদের মেলে ধরছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। যদিও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তাদের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না, তবুও বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে তাদের লড়াই করার মানসিকতা প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের বিরুদ্ধে ডাচদের সেই লড়াই আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান। মোদী তার বক্তব্যে এই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন।
হকি ও নেদারল্যান্ডসের সাথে অনন্য সম্পর্ক
ক্রিকেট ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মোদী হকির ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ডাচ কোচরা যেভাবে ভারতীয় হকি দলকে পুনর্গঠন করেছেন, তা ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে এক মাইলফলক। বিশেষ করে ভারতীয় নারী হকি দলের সাফল্যে কোচ শোর্ড মারিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সবশেষে, আগামী হকি বিশ্বকাপে ভারতীয় প্রবাসীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, খেলাধুলার এই বন্ধন ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করবে। দুই দেশের এই সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আদান-প্রদান ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সাফল্যের পথ প্রশস্ত করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
