“Happy to get the win”: Shubman Gill delighted after winning POTM and stroming i – IPL 2026: শুভমান গিলের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ফাইনালে গুজরাট টাইটানস
Contents
আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালে গুজরাট টাইটানস
মুল্লানপুরের মহারাজা যাদবিন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আইপিএল ২০২৬-এর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। গুজরাট টাইটানস (GT) এবং রাজস্থান রয়্যালসের (RR) মধ্যকার এই ম্যাচে শুভমান গিলের ব্যাট থেকে আসা বিধ্বংসী সেঞ্চুরি গুজরাটকে ৭ উইকেটের বিশাল জয় এনে দিল। এই জয়ের ফলে গুজরাট টাইটানস সরাসরি পৌঁছে গেল আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালে।
টসের নাটক ও রাজস্থানের ব্যাটিং
ম্যাচ শুরুর আগেই টস নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রথমবার রিয়ান পরাগের ডাক ম্যাচ অফিসিয়াল শুনতে না পাওয়ায় পুনরায় টস করতে হয়। শেষ পর্যন্ত টসে জিতে রাজস্থান রয়্যালস প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। গুজরাট তাদের একাদশে আর সাই কিশোরকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ব্যাটিং করতে নেমে রাজস্থানের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। যশস্বী জয়সওয়াল মাত্র ১ রান এবং ধ্রুব জুরেল ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা রাজস্থানকে টেনে তোলেন বৈভব সূর্যবংশী এবং রবীন্দ্র জাদেজা।
রাজস্থানের বড় সংগ্রহ
বৈভব মাত্র ৩১ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন। জাদেজা ৩৪ রান করার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লেও পরে আবার ফিরে আসেন। বৈভব ৯৬ রানে আউট হলেও তার ইনিংসটি রাজস্থানকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। শেষ দিকে ডনোভান ফেরেরা মাত্র ১১ বলে ৩৮* এবং জাদেজা অপরাজিত ৪৫ রান করলে রাজস্থান ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়।
শুভমান গিলের শাসন
২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় গুজরাটকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন শুভমান গিল এবং সাই সুদর্শন। পাওয়ার প্লে-তেই তারা স্কোরবোর্ডে ৬৯ রান তুলে ফেলে। গিল এবং সুদর্শন মিলে ১৬৭ রানের একটি বিশাল জুটি গড়েন। সাই সুদর্শন দুর্ভাগ্যবশত হিট-উইকেট হয়ে আউট হওয়ার আগে ৫৮ রান করেন। অন্যদিকে, শুভমান গিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংসটি খেলেন। মাত্র ৪৭ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি মোট ১০৪ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষদিকে রাহুল তেওয়াটিয়ার দ্রুত ১৭* রানের ইনিংসে ভর করে গুজরাট অনায়াসে লক্ষ্য পূরণ করে।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হওয়ার পর শুভমান গিল তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘টসের সময় কিছুটা বিভ্রান্তি ছিল, তবে জয় পাওয়ায় আমি আনন্দিত। আমরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে খেলি এবং বোলারদের ওপর কখন আক্রমণ করতে হবে তা আমরা ভালো বুঝি।’
নিজের সেঞ্চুরি এবং ফর্ম নিয়ে গিল আরও বলেন, ‘আমি আসলে কোনো কিছুতেই মনোযোগ দিচ্ছিলাম না, শুধু বল দেখছিলাম এবং আমার প্রিয় শটগুলো খেলছিলাম। যখন আপনি ভালো ফর্মে থাকেন, তখন সবকিছুই সহজ মনে হয়। আমরা একটি ভালো লক্ষ্য তাড়া করছিলাম এবং শুরুটা পাওয়ার পর আমি চেয়েছিলাম ম্যাচ শেষ করেই মাঠ ছাড়তে। আমাদের বোলাররা সত্যিই অসাধারণ।’
উপসংহার
এই জয়ের মাধ্যমে গুজরাট টাইটানস প্রমাণ করল কেন তারা টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল। শুভমান গিলের নেতৃত্ব এবং তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এখন ফাইনালে তাদের জয়ের অন্যতম বড় আশার আলো। ক্রিকেট ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ফাইনাল ম্যাচের জন্য, যেখানে গিল তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইবেন।
