‘Disappointing’ – Sangakkara on Sam Curran turning out for Surrey with IPL still – স্যাম কারানের আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোয় হতাশ কুমার সাঙ্গাকারা
Contents
স্যাম কারানের আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোয় তীব্র প্রতিক্রিয়া সাঙ্গাকারার
আইপিএল ২০২৬ মরসুমে রাজস্থান রয়্যালসের (আরআর) হয়ে খেলার কথা ছিল ইংলিশ অলরাউন্ডার স্যাম কারানের। তবে কুঁচকির ইনজুরির দোহাই দিয়ে তিনি মাঝপথেই টুর্নামেন্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, আইপিএল চলাকালীনই তাকে সারের হয়ে ভাইটালিটি ব্লাস্টে খেলতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
ইনজুরির দাবি বনাম মাঠের বাস্তবতা
মার্চের ১৯ তারিখ স্যাম কারান যখন আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন, তখন তাকে ‘মরসুম শেষ করে দেওয়ার মতো ইনজুরি’র কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই একই খেলোয়াড়কে মে মাসের ২২ তারিখে সারের জার্সিতে ভাইটালিটি ব্লাস্টে মাঠে নামতে দেখা যায়। সাঙ্গাকারা আইপিএলের কোয়ালিফায়ার ২-এর পর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল স্যাম কারানের ইনজুরি অনেক গুরুতর। অথচ তাকে আমি সারের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে দেখলাম। এটি সত্যিই হতাশাজনক।’
চুক্তির অমর্যাদা ও বিসিসিআই-এর নীতি
আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় ইনজুরির কারণে নাম প্রত্যাহার করলে সেটি যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে হতে হয়। সাঙ্গাকারা মনে করেন, বিসিসিআই-এর নীতি আরও কঠোর হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী দায়বদ্ধতা পালন করা প্রতিটি খেলোয়াড়ের দায়িত্ব। বিসিসিআই-এর নিয়ম কঠোর হওয়া প্রয়োজন যাতে এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, যদি ইনজুরি সত্যিই গুরুতর হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু মাঠে ফিরে আসাটা প্রশ্নবিদ্ধ।
অন্যান্য খেলোয়াড়দের উদাহরণ
সাঙ্গাকারা রাজস্থান রয়্যালসের দলের বাকি সদস্যদের পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেন। অ্যাডাম মিলনে, শিমরন হেটমায়ার কিংবা লুন-দ্রে প্রিটোরিয়াসের মতো খেলোয়াড়রা মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও দলের সঙ্গে থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। দলের প্রয়োজনে জলের বোতল বয়ে আনা থেকে শুরু করে অনুশীলনে ঘাম ঝরানো—সবাই দলের হয়ে কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে স্যাম কারানের এই অনুপস্থিতি তাই কোচের কাছে আরও বেশি দৃষ্টিকটু ঠেকেছে।
দাসের শানাকার সমস্যা
স্যাম কারানের বিকল্প হিসেবে আরআর দলে নিয়েছিল দাসের শানাকাকে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ফলে শানাকাকে তার লাহোর কালান্দার্সের চুক্তি বাতিল করতে হয়, যার জন্য তাকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছিল। কারানের হঠাৎ সরে দাঁড়ানো যে দলের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।
উপসংহার
স্যাম কারান বর্তমানে সারের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এবং দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও বটে। তবে তার ব্যক্তিগত সাফল্য রাজস্থান রয়্যালসের ড্রেসিংরুমে যে তিক্ততার জন্ম দিয়েছে, তা সহজে মুছে যাওয়ার নয়। একজন পেশাদার ক্রিকেটারের কাছ থেকে চুক্তির প্রতি আরও সততা আশা করাই স্বাভাবিক। এখন দেখার বিষয়, বিসিসিআই ভবিষ্যতে এই ধরনের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে আরও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।
