Solanki banks on Gill-Sai Sudharsan’s ‘immense appetite for run-scoring’ – শুভমন গিল ও সাই সুদর্শনের রান ক্ষুধা নিয়ে আশাবাদী বিক্রম সোলাঙ্কি
Contents
শুভমন গিল ও সাই সুদর্শনের জুটির ম্যাজিক
আইপিএলের মঞ্চে শুভমন গিল এবং বি সাই সুদর্শনের জুটি বর্তমান ক্রিকেটে এক অন্যতম আলোচনার বিষয়। তাদের স্কোরিং রেট নিয়ে অতীতে কিছু প্রশ্ন উঠলেও, বড় ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স সেই সব সংশয় দূর করে দিয়েছে। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ২১৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে গিল ও সুদর্শন যেভাবে ৭৭ বলে ১৬৭ রানের জুটি গড়লেন, তা ছিল এককথায় অসাধারণ।
বিক্রম সোলাঙ্কির বিশ্লেষণ
গুজরাট টাইটান্সের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট বিক্রম সোলাঙ্কি এই দুই ব্যাটারের প্রশংসা করতে গিয়ে জানান, তাদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। সোলাঙ্কি বলেন, ‘তাদের সব গুণই আজ মাঠে ফুটে উঠেছে। শুভমন অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং পরিশ্রমী একজন তরুণ। অন্যদিকে, সুদর্শন কিছুটা নতুন হলেও সে গিলের থেকে অনেক কিছু শিখছে এবং নিজের ব্যাটিং শৈলীকে আরও উন্নত করছে।’
সোলাঙ্কির মতে, গিল ও সুদর্শনের মধ্যে রানের যে বিশাল ক্ষুধা রয়েছে, তা যেকোনো দলের জন্যই সম্পদ। তারা কেবল বড় রান করেন না, বরং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্রাইক রেট বাড়াতে বা কমাতে পারেন, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অত্যন্ত জরুরি।
রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, আইপিএলে গিল ও সাই সুদর্শনের মোট রান এখন ২৯৪৪। এই জুটি মাত্র আইপিএল ২০২২ থেকে একসাথে খেলছে। এর আগে এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং বিরাট কোহলির জুটি ১০ বছরে ৩১২৩ রান করেছিল, যা এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ। গিল ও সুদর্শনের বর্তমান ফর্ম বলছে, তারা খুব দ্রুতই সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারেন।
গত মৌসুমে সাই সুদর্শন ৭৫৯ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছিলেন, সেখানে গিল করেছিলেন ৬৫০ রান। বর্তমান মৌসুমেও গিল ৭২২ এবং সুদর্শন ৭১০ রান করে তালিকার উপরের দিকে রয়েছেন। এই দুই ব্যাটারের ব্যাটিংয়ের ধরণ একে অপরের পরিপূরক।
গিল ও সুদর্শনের কাজের নৈতিকতা
সুদর্শনের কাজের নৈতিকতা নিয়ে সোলাঙ্কি বলেন, ‘সে একজন ছাত্রের মতো খেলাটিকে শেখে। সে প্রতিপক্ষকে নিয়ে পড়াশোনা করে এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো খামতি রাখে না। তাকে অনেক সময় আমাদেরই থামিয়ে রাখতে হয় কারণ সে সবসময় অনুশীলনে মগ্ন থাকতে চায়।’
অন্যদিকে, শুভমন গিল সম্পর্কে সোলাঙ্কি জানান যে, ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়া বা অধিনায়কত্বের চাপের পরেও গিলের প্রস্তুতির মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, ‘পেশাদার ক্রিকেটে সাফল্য ও ব্যর্থতা আসবেই, কিন্তু গিল সবসময় তার প্রস্তুতিতে মনোযোগী।’
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
শুক্রবার রাজস্থানের বিরুদ্ধে গিল ৫৩ বলে ১০৪ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৬.২২। এখন গুজরাট টাইটান্সের সামনে আইপিএল ফাইনাল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আমদাবাদের ঘরের মাঠে গিল ও সুদর্শন কি পারবেন আরও একবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে? ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন সেই দিকেই।
সামগ্রিকভাবে, গিল ও সুদর্শনের এই জুটি কেবল গুজরাট টাইটান্সের জন্যই নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যও এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা। তাদের এই রান ক্ষুধা এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে থাকবে।
