ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: মিথুন ও শিবলীর সেঞ্চুরিতে বড় জয় রূপগঞ্জ ও লেপার্ডসের
Contents
ডিপিএলে রানের উৎসব: শিবলী ও মিথুনের ব্যাটে বড় জয়
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) গত রাউন্ডটি ছিল ব্যাটারদের দাপটের। লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ এবং ঢাকা লেপার্ডস উভয় দলই তাদের প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। দুই ম্যাচেই ছিল ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির ঝলক এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পারফরম্যান্স।
আশিকুর রহমান শিবলীর সেঞ্চুরিতে রূপগঞ্জের বিশাল জয়
বিকেএসপি ৪ নম্বর গ্রাউন্ডে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ এবং গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচে রূপগঞ্জ একপেশে আধিপত্য দেখিয়েছে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রূপগঞ্জ নির্ধারিত ৫০ ওভারে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। দলের পক্ষে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন আশিকুর রহমান শিবলী। তিনি ১৩০ বলে ১১৯ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কার মার।
শিবলীর ইনিংসটি সাজাতে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন রবিউল ইসলাম, যিনি করেন ৬৫ রান। এছাড়া ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান দ্রুত ৩৯ রান যোগ করে শুরুটা ভালো করে দেন। শেষ দিকে সামিউন বসির রাতুল ৩০ বলে ৪৭ রান এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান ১৮ বলে ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললে রূপগঞ্জের সংগ্রহ ৩৫০ ছাড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তারা থামে ৩৫৪ রানে।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। রূপগঞ্জের স্পিনার নাসুম আহমেদ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য; তিনি চার উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। গুলশানের হয়ে শাহরিয়ার সাকিব ৬১ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত গুলশান ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় এবং রূপগঞ্জ ২০৫ রানের বিশাল জয় পায়।
মোহাম্মদ মিথুনের বীরত্বে ঢাকা লেপার্ডসের জয়
অন্য ম্যাচে ক্রিকেটার্স একাডেমি গ্রাউন্ডে ঢাকা লেপার্ডস ১২০ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা লেপার্ডসও রানের পাহাড় গড়ে। দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিথুন ছিলেন ম্যাচের মূল আকর্ষণ। তিনি মাত্র ৮৬ বলে ১১২ রানের একটি মারমুখী ইনিংস খেলেন। তার এই ইনিংসে ৮টি বিশাল ছক্কা ও ৩টি চারের মার ছিল দেখার মতো।
ইফতেখার হোসেন ইফতির ৫১ রানের ইনিংসটিও লেপার্ডসকে ভালো ভিত্তি এনে দেয়। মঈন খান ৪৪ বলে ৬৯ রান করে দলের সংগ্রহকে ৩৫১ রানে নিয়ে যেতে বড় অবদান রাখেন। ৭ উইকেট হারিয়ে ঢাকা লেপার্ডস বড় সংগ্রহ পায়।
জবাবে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ব্যাটিং শুরু করলেও বড় কোনো জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়। দলের পক্ষে গোলাম কিবরিয়া অপরাজিত ৫১ রান করলেও অন্যরা ব্যর্থ হন। ফলে ২৩১ রানেই শেষ হয়ে যায় ব্রাদার্স ইউনিয়নের ইনিংস। ঢাকা লেপার্ডসের হয়ে আলাউদ্দিন বাবু এবং শেখ পারভেজ জীবন বল হাতে প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট শিকার করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট
এই ম্যাচগুলো প্রমাণ করে যে ডিপিএলে এখন ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স কতটা জরুরি। বড় লক্ষ্য তাড়ায় গুলশান কিংবা ব্রাদার্স ইউনিয়ন—কেউই খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। বিশেষ করে নাসুম আহমেদ এবং পারভেজ জীবনদের মতো বোলাররা চাপের মুখে যেভাবে উইকেট তুলে নিয়েছেন, তা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক চরিত্রটিকেই ফুটিয়ে তোলে। পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে দলগুলো এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
