বোনাসের বদলে আধুনিক জিম ও সুইমিং পুল চাইলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা
Contents
একটি নতুন যুগের সূচনা: বোনাসের চেয়েও গুরুত্ব পেল দেশের ক্রিকেট
ক্রিকেটে বড় কোনো অর্জন বা ঐতিহাসিক জয় মানেই খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ আর্থিক পুরস্কার বা বোনাস। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সফরে গিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় করে দেশে ফিরেছিল, তখনও প্রথা অনুযায়ী ক্রিকেটারদের বোনাস দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু এবার চিত্রপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। খেলোয়াড়রা আর্থিক পুরস্কারের মোহে পড়ে না থেকে বরং এমন কিছু চেয়েছেন, যা দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে।
খেলোয়াড়দের দাবি: আধুনিক জিম ও সুইমিং পুল
শান্ত, মুমিনুল হক এবং পুরো স্কোয়াড বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের (তথ্যসূত্র অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত) কাছে তাদের বোনাসের পরিবর্তে বিশ্বমানের একটি জিম ও আধুনিক সুইমিং পুলের আবেদন জানিয়েছেন। তাদের মতে, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখতে এবং মাঠের পারফরম্যান্সকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে আধুনিক রিকভারি সুবিধার বিকল্প নেই। ক্রিকেটারদের এই দাবিটি শুধুমাত্র বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে যারা জাতীয় দলে আসবে, তাদের জন্যও একটি বড় আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করবে।
বিসিবি সভাপতির ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
ক্রিকেটারদের এমন পরিপক্ক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তে মুগ্ধ বিসিবি কর্তৃপক্ষ। বিসিবি প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘তারা সত্যিই অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু এবার যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমাকে দারুণভাবে আনন্দ দিয়েছে। খেলোয়াড়রা আমাকে সরাসরি বলেছে যে, তাদের বোনাসের প্রয়োজন নেই। যদি বোর্ড তাদের জন্য একটি বিশ্বমানের জিম এবং সুইমিং পুলের ব্যবস্থা করে দেয়, তবে সেটাই হবে তাদের জন্য বড় বোনাস।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বোর্ড ক্রিকেটারদের প্রাপ্য বোনাস দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল, কিন্তু এই অনন্য অনুরোধটি তাদের চিন্তার জগতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ
খেলোয়াড়দের এই চিন্তাধারা ছিল সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ। তারা শুধু নিজেদের কথা না ভেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কথাও ভেবেছেন। বিসিবি প্রেসিডেন্ট জানান, ‘তারা নিজেরা ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে বড় কিছু চেয়েছেন। আমরা বিশ্বের সেরা সরঞ্জাম দিয়ে জিম তৈরি করব। সেই সাথে থাকবে আধুনিক সুইমিং পুল এবং রিকভারি সেন্টার, যেখানে আইস বাথ ও হট বাথ প্রযুক্তির সুবিধা থাকবে। এতে খেলোয়াড়দের আর কষ্ট করে বরফের ব্যবস্থা করতে হবে না।’ এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন দলের রিকভারি প্রসেসকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি
প্রকল্পটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিসিবি বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা বোর্ডের পরিবর্তনের বিষয়টি যেন এই কাজে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। এটি একটি জাতীয় সম্পদ এবং ক্রিকেটারদের এই মানসিকতাকে সম্মান জানিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ অর্থিক বোনাস হয়তো একজন ক্রিকেটারের জন্য সাময়িক আনন্দ বয়ে আনতে পারত, কিন্তু এই অবকাঠামো আগামী বহু বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করবে।
উপসংহার
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, দেশের ক্রিকেটের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা কতটা গভীর। বোনাসের চেয়েও দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য তাদের এই আত্মত্যাগ ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশা করা যাচ্ছে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই নতুন অবকাঠামো বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে।
