Bangladesh Cricket

বিসিবি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন তামিম ইকবাল

Elena V. Kostova · · 1 min read
Share

বিসিবি নির্বাচনে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি তামিম ইকবালের

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক ছিল। এমনকি সেই প্রক্রিয়ার মাঝপথে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তবে কালের পরিক্রমায় দৃশ্যপট বদলেছে। সেই বিতর্কিত বোর্ডের স্থায়িত্বও বেশিদিন ছিল না। বর্তমানে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাড-হক কমিটির অধীনে নতুন করে বিসিবি নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে তামিম ইকবাল স্পষ্ট করে দিলেন যে, এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বর্তমান বোর্ডের কোনো প্রকার প্রভাব নেই।

নির্বাচন কমিশনই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক

মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম ইকবাল জানান, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এই পুরো প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছি। সবকিছু এখন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ন্ত্রণে। আমি কোনো চিঠিতে স্বাক্ষর করছি না বা কাউন্সিলরশিপের কাগজপত্রে কোনো হস্তক্ষেপ করছি না।’

তামিমের তথ্যমতে, মোট ১৯২ জন কাউন্সিলরের বিপরীতে এরই মধ্যে প্রায় ১৮৬টি জমা পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর আসা কিছু আবেদন সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতেই বোঝা যায়, প্রক্রিয়াটি কতটা নিয়মমাফিক চলছে।

প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের অঙ্গীকার

তামিম দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছেন, বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা বা পরিচালক এই নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রাখছেন না। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে বোর্ড পরিচালক, প্রেসিডেন্ট বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কোনো ভূমিকা থাকবে না। আমার নেতৃত্বে আমরা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আমি নিজেই ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচনে লড়ছি এবং আজ আমার মনোনয়ন জমা দিয়েছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনারা যদি নিজেরা অনুসন্ধান করেন, তবে দেখতে পাবেন যে ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো লবিং বা অনুরোধ করা হচ্ছে না। সবাইকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনটি যেন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়।’

READ:  আইপিএল ছাড়ার নেপথ্যে লিটন দাসের অজানা গল্প: বিসিবি ও কেকেআরের সেই আক্ষেপ

প্যানেল বনাম উন্মুক্ত নির্বাচন

নির্বাচনে প্যানেল গঠনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, ‘না, এখন পর্যন্ত প্যানেল গঠনের কোনো চিন্তা আমাদের নেই। এটি একটি উন্মুক্ত নির্বাচন হবে, যেখানে প্রত্যেকে নিজের মতো করে অংশগ্রহণ করতে এবং প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে আমি একটি উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি, যেখানে ৭৬টি ক্লাবের প্রতিনিধিরা একত্রিত হতে পারেন। সেখানে সবাই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ভোটারদের আস্থা

ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে প্রার্থী হিসেবে তামিম এখন ভোটারদের আস্থা অর্জনে মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, একজন প্রার্থী হিসেবে নিজের ভিশন ভোটারদের কাছে পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি।

তামিম বলেন, ‘আপনারা জানেন একজন প্রার্থীকে কীভাবে ভোটারদের বোঝাতে হয়। আপনি কী করতে চান, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী—তা ভোটারদের জানানো প্রয়োজন। আমার কিছু পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা হয়তো অবগত, যা আমার জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে। তবে কেবল সেই সুবিধার ওপর নির্ভর করে নির্বাচন জেতা সম্ভব নয়। আমাকে সবার সাথে কথা বলতে হবে, তাদের বোঝাতে হবে এবং ভোটের জন্য অনুরোধ করতে হবে। আমি অন্য সব প্রার্থীর মতোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রচারণা চালাব।’

ক্রিকেটের স্বার্থে স্বচ্ছতার পথ

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তামিম ইকবালের এই স্বচ্ছ অবস্থানের কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কাটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তামিমের ভাষায়, ‘প্রত্যেকেই নিজের মতো করে প্রচার করুক, কিন্তু খেলার স্বার্থে নির্বাচন হতে হবে শতভাগ নিরপেক্ষ।’

সামনে দিনগুলোতে বিসিবির এই নির্বাচন কীভাবে সম্পন্ন হয় এবং নতুন নেতৃত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে শুরুতেই তামিমের এই স্বচ্ছতার বার্তা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে ক্রিকেট মহল।

READ:  সিলেট টেস্ট: বাবর আজমের প্রত্যাবর্তন নিয়ে চিন্তিত নয় বাংলাদেশ
Elena V. Kostova

Cricket's leading voice in Eastern Europe and an aggressive advocate for women's cricket globally. Elena V. Kostova transitioned from playing professional softball to becoming a prominent analyst for ICC Women's events. She specializes in "women's cricket rankings," "emerging associate nations," and "grassroots development." Her passionate editorials on equal pay and broadcast coverage for women's Tests have sparked real conversations across the sport's traditional powerbases.