Bangladesh Cricket

মোসাদ্দেক ও সাব্বিরের ব্যাটে ঢাকা লিগ জিতল আবাহনী

Liam T. Foster · · 1 min read
Share

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। এই জয় আবাহনীর ডিপিএল শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করেছে। পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল নাটকীয়তা, যেখানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সাব্বির রহমানের অসাধারণ ইনিংস শেষ পর্যন্ত আবাহনীকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।

টসে হেরে ব্যাট হাতে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের বিপর্যয়

ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় আবাহনী লিমিটেড। তাদের বোলাররা শুরু থেকেই দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে চেপে ধরে। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বসুন্ধরা। দলের তারকা ব্যাটসম্যানরা কেউই বড় স্কোর গড়তে পারেননি। দ্রুতই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন সাইফ হাসান, ইমরান উজ্জামান, ফজলে মাহমুদ এবং অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। মাত্র ৩০ রানের মধ্যেই টপ-অর্ডারের ৪ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে যায় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। এই ধাক্কা থেকে বেরিয়ে আসা তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

আমিনুল ও নাহিদুলের প্রতিরোধ

তবে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন তরুণ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব এবং নাহিদুল ইসলাম। এই দুই ব্যাটসম্যান পঞ্চম উইকেটে ১৩৩ রানের এক অসাধারণ এবং বুদ্ধিদীপ্ত জুটি গড়ে তোলেন। তাদের এই জুটি কেবল দলের বিপর্যয়ই ঠেকায়নি, বরং সম্মানজনক একটি স্কোর গড়ার ভিতও তৈরি করে দেয়। নাহিদুল ইসলাম এক প্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। ৯৫ বলে তিনি ৬৩ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন, যা দলের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। অন্যদিকে, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ছিলেন আক্রমণের মূল স্তম্ভ। ১১৭ বলে তিনি ৮১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন, যেখানে ছিল বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির মিশেল। তার এই ইনিংসটিই বসুন্ধরাকে লড়াকু পুঁজি এনে দিতে সাহায্য করে।

READ:  ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: মিথুন ও শিবলীর সেঞ্চুরিতে বড় জয় রূপগঞ্জ ও লেপার্ডসের

এই দুই ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তা এবং অভিজ্ঞতার কারণে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। আবাহনীর পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেন রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণ। তিনি একাই ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষকে বড় স্কোর গড়তে দেননি। তার স্পেল ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

আবাহনীর লক্ষ‍্য তাড়া: শুরুর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানো

২১০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবাহনী লিমিটেডও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। বসুন্ধরার বোলাররাও আবাহনীর টপ-অর্ডারকে ধসিয়ে দিতে সক্ষম হয়। দলের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার এবং জিশান আলম দ্রুতই সাজঘরে ফিরে যান। এরপর মাহেদুল ইসলাম অঙ্কন ১৯ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও, তিনিও বেশিদূর যেতে পারেননি। যখন এস এম মেহেরবও ব্যর্থ হন, তখন মাত্র ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে আবাহনীও এক গভীর সংকটে পড়ে। মনে হচ্ছিল, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স হয়তো ম্যাচটি জিতে যাবে। কিন্তু ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, আর আবাহনীর হাতে ছিল আরও কিছু তাস।

অধিনায়ক মোসাদ্দেকের নেতৃত্বসুলভ ইনিংস

দলের এমন নাজুক পরিস্থিতিতে ত্রাতা হয়ে আসেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি ব্যাট হাতে নেমে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের এক দারুণ সমন্বয় ঘটান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন জাকার আলী অনিক। মোসাদ্দেক ও জাকার আলী মিলে পঞ্চম উইকেটে এক দারুণ জুটি গড়ে আবাহনীকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। জাকার আলী অনিক ৬২ বলে ৪৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে মোসাদ্দেককে সহায়তা করেন। এই জুটিই আবাহনীর জয়ের পথ সুগম করে।

মোসাদ্দেক হোসেন নিজে ছিলেন আরও বেশি আগ্রাসী। ৫৪ বলে ৫৭ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৩টি চার এবং ৫টি বিশাল ছক্কা। তার প্রতিটি শটেই ছিল আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচ জেতানোর দৃঢ় সংকল্প। তার আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল আবাহনী আবার চাপে পড়বে, কিন্তু দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা তা হতে দেননি।

READ:  সিলেট টেস্ট: বাবর আজমের প্রত্যাবর্তন নিয়ে চিন্তিত নয় বাংলাদেশ

সাব্বির ও রাব্বির অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয়

মোসাদ্দেকের বিদায়ের পর দলের বাকি কাজটুকু দারুণভাবে সম্পন্ন করেন সাব্বির রহমান এবং মাহফুজুর রহমান রাব্বি। সাব্বির রহমান ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তিনি ৫৪ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৪টি চার এবং ২টি ছক্কা। তার এই ইনিংসটি ছিল চাপ সামলে ম্যাচ শেষ করার এক আদর্শ উদাহরণ। মাহফুজুর রহমান রাব্বিও ২২ রানে অপরাজিত থেকে সাব্বিরকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আবাহনী ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এই জয়টি ছিল দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল, যেখানে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং তিন বিভাগেই তারা নিজেদের সেরাটা দিতে পেরেছে।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট এবং পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ

এই ম্যাচের মূল টার্নিং পয়েন্ট ছিল উভয় দলের মিডল-অর্ডারের পারফরম্যান্স। বসুন্ধরার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও নাহিদুল ইসলামের ১৩৩ রানের জুটি তাদের একটি সম্মানজনক পুঁজি এনে দিয়েছিল। কিন্তু আবাহনীর মোসাদ্দেক হোসেন ও জাকার আলী অনিকের জুটি এবং পরবর্তীতে সাব্বির রহমান ও মাহফুজুর রহমান রাব্বির অবিচ্ছিন্ন জুটি ম্যাচটি আবাহনীর দিকে ঘুরিয়ে দেয়। রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণের ৪ উইকেট শিকার আবাহনীর বোলিং পারফরম্যান্সের এক উজ্জ্বল দিক। একইভাবে, বসুন্ধরার বোলাররাও শুরুর দিকে আবাহনীকে চাপে ফেলতে সক্ষম হলেও, শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতার জন্য প্রয়োজনীয় উইকেটগুলো নিতে পারেননি।

ডিপিএল ২০২৩-২৪: আবাহনীর শিরোপা স্বপ্ন

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এই জয় আবাহনী লিমিটেডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে এবং শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রমাণ করেছে। মোসাদ্দেক হোসেনের নেতৃত্ব এবং দলের সিনিয়র ও তরুণ খেলোয়াড়দের সম্মিলিত পারফরম্যান্স এই জয়ের মূল কারণ। সামনের ম্যাচগুলোতেও তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ডিপিএল শিরোপা তাদের হাতে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এই ম্যাচটি প্রমাণ করে দিল যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা কিভাবে দলের হাল ধরে জয় ছিনিয়ে আনতে পারে।

READ:  আইপিএল ২০২৬: ভুবনেশ্বর কুমারের ফর্ম, টিম ইন্ডিয়া নির্বাচকদের জন্য কঠিন প্রশ্ন
Liam T. Foster

A betting and odds specialist who turned a hobby into a career, Liam provides ethical, data-backed market analysis for cricket punters. Formerly a trader for a London-based sportsbook, he now writes daily "cricket betting tips," "over/under runs analysis," and "live odds movement trackers." Liam's unique value is his transparency – he tracks his own win/loss record publicly. He is essential reading for anyone putting money on the Ashes or a random bilateral ODI series.