সিলেটে ব্যাটিং বিপর্যয়: বাংলাদেশের বোলিং নয়, নিজেদের ভুলে উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান – বাবর আজম
Contents
সিলেটে পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়: দোষ কার?
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে যখন পাকিস্তানের স্কোরবোর্ড নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, তখন বাবর আজম তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই কথা বললেন। ২৭৮ রানের জবাবে পাকিস্তান গুটিয়ে গেছে মাত্র ২৩২ রানে। ৪৬ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ এখন চালকের আসনে। তবে এই ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব দেওয়ার চেয়ে নিজেদের ভুলগুলোকেই বড় করে দেখছেন বাবর আজম।
বোলারদের চেয়ে নিজেদের ভুল বড়
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাবর আজম স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে খুব বেশি কৃতিত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি নন। বাবর বলেন, ‘না, আমি মনে করি না যে শুধু বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই আমাদের ব্যাটিং ব্যর্থ হয়েছে। তাদের বোলিং ভালো ছিল, কিন্তু আমরা নিজেরাই অনেকগুলো সহজ উইকেট বিলিয়ে দিয়েছি।’
বাবরের এই মন্তব্যে ফুটে উঠেছে পাকিস্তানের শীর্ষ সারির ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট সিলেকশনের চিত্র। যখন ক্রিজে সেট হয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগোনো প্রয়োজন ছিল, তখনই অপ্রয়োজনীয় শট খেলে উইকেট দিয়ে এসেছেন ব্যাটাররা।
পিচ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই
অনেকেই মনে করছেন সিলেটের উইকেট হয়তো ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু বাবর আজম সেই তত্ত্ব পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই ভালো। বল ব্যাটে সুন্দরভাবে আসছে। আমরা শুধু বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়েছি। শুরুটা আমাদের ভালোই ছিল। সালমান এবং আমি একটা জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু সেটা খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।’
টার্নিং পয়েন্ট কী ছিল?
বাবরের মতে, ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার মূল কারণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের উইকেট পড়ে যাওয়া। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল আমার এবং সালমানের আউট হওয়া। এরপর আমরা আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারিনি। ওই দুটি উইকেটই খেলার মোমেন্টাম পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।’
মানসিক কোনো বাধা কি কাজ করছে?
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সাম্প্রতিক টেস্ট ইতিহাস বেশ নাটকীয়। গত কয়েক ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে টাইগারদের বিপক্ষে টানা হারের রেকর্ড কি পাকিস্তানের ব্যাটারদের মনে কোনো মানসিক চাপ তৈরি করছে? বাবর আজম এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘না, দুই দলই একে অপরের বিপক্ষে বহুবার খেলেছে। আমি মনে করি না এখানে কোনো মানসিক বাধা কাজ করছে। আসল সমস্যা হলো আমাদের জুটির অভাব। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে হলে আপনাকে অন্তত দুটি বা তিনটি বড় জুটি গড়তেই হবে।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
সিলেটে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামা পাকিস্তান এখন বেশ চাপে। যদি এই ম্যাচেও পাকিস্তান পরাজিত হয়, তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা চারটি টেস্ট হারের লজ্জা পেতে হবে তাদের। বাবর আজমের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ৬৮ রান, যা ছিল দলের সর্বোচ্চ। দলের এই বিপর্যয়ের দিনে বাবর একাই লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। তবে কেবল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়ে যে টেস্ট জয় করা সম্ভব নয়, তা বাবরও ভালো করেই জানেন।
এখন দেখার বিষয়, ম্যাচের বাকি সময়ে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়িয়ে কতটা লড়াই করতে পারে। বাবর আজমের ব্যাটে রান ফিরলেও দলের সামগ্রিক ব্যাটিং ইউনিট যে বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সিলেট টেস্টের এই পারফরম্যান্স থেকেই স্পষ্ট। বাংলাদেশের বোলাররা যেভাবে লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বোলিং করছেন, তাতে পাকিস্তানি ব্যাটারদের জন্য কাজটা যে মোটেও সহজ হবে না, তা বলাই বাহুল্য।
