সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে অসম্ভব জয়ের স্বপ্নে বিভোর ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিক
Contents
সিলেটে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। সিলেটের পিচে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তান দলের ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিক এখনও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। দিনের শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য শেষ দিনে তাদের প্রয়োজন আরও ১২১ রান। শফিকের মতে, এটি পাকিস্তানের এই সিরিজের সেরা ব্যাটিং প্রদর্শনী।
মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপর বাজি
পাকিস্তানের জয়ের আশা মূলত টিকে আছে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপর। তিনি দিন শেষে ৭৫ রানে অপরাজিত আছেন। আসাদ শফিক বলেন, ‘আমরা এখনও জয়ের স্বপ্ন দেখছি। ১২০ রান খুব বেশি নয়, বিশেষ করে যখন রিজওয়ান ক্রিজে আছে। সাজিদ খানের আগের ইনিংসের পারফরম্যান্সও আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।’
ব্যাটিং ইউনিটের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
সিরিজের আগের তিনটি ইনিংসে ব্যর্থতার পর চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শান মাসুদ এবং বাবর আজমের ৯২ রানের জুটি এবং পরবর্তীতে রিজওয়ান ও সালমান আলী আগার ১৩৪ রানের জুটি ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে। আসাদ শফিক বলেন, ‘ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে এটি একটি চমৎকার প্রত্যাবর্তন। আমরা এই সিরিজে এমন জুটির অভাব বোধ করছিলাম, যা আজ দেখতে পেয়েছি।’
অধিনায়ক শান মাসুদের প্রশংসা
সিরিজজুড়ে ফর্মহীনতায় ভুগলেও এই ম্যাচে শান মাসুদ দারুণ ব্যাটিং করেছেন। তিনি ৭১ রান করে দলের ভিত গড়ে দিয়েছেন। শফিক মনে করেন, শান মাসুদ অনুশীলনে প্রচুর পরিশ্রম করছেন এবং চাপের মুখে তার এই ব্যাটিং দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, ‘শান খুব ভালো ব্যাটিং করেছে, চাপের মুখে ধৈর্য ধরেছে এবং আলগা বলগুলোকে কাজে লাগিয়েছে।’
সিলেটের পিচ নিয়ে শফিকের মূল্যায়ন
সিলেটের উইকেট নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ। তার মতে, এটি টেস্ট ক্রিকেটের জন্য একটি চমৎকার পিচ। এখানে স্পিনার এবং পেসার—উভয়ের জন্যই সহায়তা রয়েছে এবং ব্যাটাররা তাদের শটের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন। শফিক বলেন, ‘আমি মনে করি এটি সেরা টেস্ট উইকেটগুলোর একটি, যেখানে সবার জন্যই কিছু না কিছু আছে।’
শেষ দিনের সমীকরণ
যদিও তাইজুল ইসলামের স্পিন ঘূর্ণিতে দিনের শেষভাগে পাকিস্তান দুটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল, তবুও ড্রেসিংরুমের আবহে কোনো হতাশা নেই। আসাদ শফিকের এই আশাবাদ কি শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সে রূপান্তরিত হবে? বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের এই টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ হাসি কে হাসবে, তা দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা এখন শেষ দিনের সেশনের দিকে।
ক্রিকেটীয় লড়াইয়ে যেকোনো কিছুই সম্ভব, আর পাকিস্তান দল তাদের সাম্প্রতিক এই ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখতে পারলে চতুর্থ ইনিংসের এই কঠিন পরীক্ষাটি একটি স্মরণীয় জয় হয়েই থাকতে পারে। পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে রিজওয়ানের ব্যাট আর বাংলাদেশের বোলারদের পাল্টা আক্রমণের লড়াইয়ের দিকে।
