অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ বোর্ডের হাতে ছেড়ে দিলেন শান মাসুদ
Contents
এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি পাকিস্তান ক্রিকেট
সিলেটে বাংলাদেশের কাছে ৭৮ রানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন শোকের আবহ। এই পরাজয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হারের স্বাদ নিতে হলো পাকিস্তানকে। শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন এই দলটির জন্য পরিসংখ্যানগুলো বেশ নির্মম। জিম্বাবুয়ে ছাড়া একমাত্র দল হিসেবে বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চারটি টেস্ট জয়ের গৌরব অর্জন করল। তাছাড়া, বিদেশের মাটিতে টানা সাতটি টেস্টে পরাজয় পাকিস্তানের সাম্প্রতিকতম সর্বনিম্ন পারফরম্যান্সের রেকর্ডকে ছুঁয়ে ফেলেছে।
অধিনায়কত্বের ভার কি শান মাসুদের হাতে?
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শান মাসুদকে বারবার তার অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। প্রাথমিকভাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে, তার ভাগ্য এখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। মাসুদ বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য পরিষ্কার। আমি টেস্ট ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই দায়িত্ব নিয়েছিলাম। বোর্ডের সাথে আলোচনা করাটা গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বোর্ডেরই। আমি কোনো চেয়ারের মোহ নিয়ে কাজ করি না, আমি পাকিস্তানের জার্সি পরে গর্ববোধ করি।’
কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে পাকিস্তান?
মাসুদের অধীনে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স গ্রাফ ক্রমাগত নিম্নমুখী। ১৬টি টেস্টের মধ্যে ১২টিতেই পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে তাদের। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত চক্রে টেবিলের তলানিতে থাকা পাকিস্তান বর্তমান চক্রেও অষ্টম স্থানে রয়েছে। শান মাসুদ মনে করেন, সমস্যার মূলে রয়েছে কাঠামোগত দুর্বলতা। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল পরিবর্তনের কথা বলে লাভ নেই। আমাদের সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। পাঁচ দিনের ম্যাচে ছোট ছোট ভুলগুলোই বড় ব্যবধান তৈরি করে দেয়। সিলেটে আমরা বাংলাদেশের ছয়টি উইকেট ফেলে দিয়েও তাদের বড় সংগ্রহ গড়তে দিয়েছি, যা আমাদের ব্যর্থতারই প্রতিফলন।’
কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান
মাসুদ মনে করেন, দলে আমূল পরিবর্তনের চেয়ে প্রয়োজন কাঠামোগত উন্নতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের আবেগতাড়িত না হয়ে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্তে আসতে হবে। খেলোয়াড়দের বয়স কোনো বিষয় নয়, বরং তারা দলের চাহিদা অনুযায়ী ভূমিকা পালন করতে পারছে কি না, সেটাই আসল। আমাদের মূল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দিকে হাঁটতে হবে।’
মাসুদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও পিচের চ্যালেঞ্জ
অধিনায়ক হিসেবে মাসুদ নিজেও ব্যাট হাতে খুব একটা ছন্দে নেই। ৪৬টি টেস্ট খেলা এই ব্যাটারের ক্যারিয়ার গড় ৩০-এর সামান্য বেশি। তবে অধিনায়কত্ব করার সময় তার গড় কিছুটা ভালো (৩৪)। বাংলাদেশের পিচ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মাসুদ জানান, এখানকার কন্ডিশন বোলার এবং ব্যাটার সবার জন্যই সমান সুযোগ রেখেছিল, যা থেকে পাকিস্তানের শেখার অনেক কিছু ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা হারের পর অজুহাত দিতে চাই না। ভক্তদের কাছে আমরা ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু এখন সময় এসেছে ঠান্ডা মাথায় বিচার করার যে পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে ঠিক কী প্রয়োজন।’
ভবিষ্যৎ পথচলা
পাকিস্তানের এই দুঃসময়ে মাসুদ নিজেকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল অধিনায়ক পরিবর্তন করলেই দলের ভাগ্য বদলাবে না। বরং ঘরোয়া কাঠামো থেকে শুরু করে মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, পিসিবি এই ব্যর্থতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং আগামীতে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য কী ধরনের রূপরেখা তৈরি করে। পরাজয়ের গ্লানি কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তান দলকে এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপরই নির্ভর করতে হবে।
