IPL 2026: বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা কীভাবে বদলে দিল ফিন অ্যালেনকে?
Contents
নতুন রূপে ফিন অ্যালেন: বাদ পড়ার যন্ত্রণা থেকে সাফল্যের শিখরে
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) জার্সি গায়ে ফিন অ্যালেন যেন এক নতুন বিধ্বংসী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৭ বলে অপরাজিত ১০০ রান ছিল তার কামব্যাক গল্পের শুরু। তবে আসল চমকটি দেখা গেল শনিবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে, যেখানে এই আসরের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের সামনে তিনি ৩৫ বলে ৯৩ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। কেকেআর শিবিরে যখন বিদেশি ওপেনারকে নিয়ে দুশ্চিন্তা দানা বাঁধছিল, ঠিক তখনই অ্যালেনের এই প্রত্যাবর্তন দলের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
আত্মপীড়নের অন্ধকার অধ্যায়
অ্যালেন নিজে স্বীকার করেছেন যে, মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত চাপের কারণেই তিনি নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। এপ্রিল মাসে পাঁচ ইনিংসে মাত্র ৮১ রান করায় তাকে দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল। সেই সময়টি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি মনে হয় কিছুদিন একরকম অস্তিত্বহীন মানুষের মতো ছিলাম। আর সেই পরিস্থিতির জন্য আমি নিজেই দায়ী ছিলাম।’ এই বিরতি তাকে ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি, ব্যাটিং উপভোগ করি। কিন্তু অতিরিক্ত চাপের কারণে সেই আনন্দ হারিয়ে ফেলেছিলাম। দল থেকে বাদ পড়ার সময়টা আমাকে স্বস্তি দিয়েছে এবং বিষয়টি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।’
অ্যালেনের ব্যাটিং কৌশলের অন্দরমহল
অ্যালেনের এই বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে তার ব্যাটিং দেখে ধারাভাষ্যকার অম্বাতি রাইডু মুগ্ধ। রাইডু উল্লেখ করেন, ‘অ্যালেন গতি পছন্দ করে এবং লেগ সাইডে বড় শট খেলতে ভালোবাসে। গুজরাটের বোলাররা ঠিক সেই জায়গাগুলোতেই বল ফেলেছে যা তার জন্য সহজ ছিল।’ শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে মনে হলেও, দ্রুতই তিনি বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেন। বিশেষ করে কাগিসো রাবাদার মতো বোলারকে শর্ট-লেংথের বলে ছক্কা মেরে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বোলার যখনই নিজেদের শক্তির জায়গায় বল করে, তখন সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাটাই তার মূল লক্ষ্য থাকে।
নিজের পরিকল্পনা নিয়ে অ্যালেন বলেন, ‘উইকেটের প্রকৃতি বুঝে আমি এগোই। যদি বল ব্যাটে আসে, তবে বাউন্ডারি বা ছক্কা মারার চেষ্টা করি। না হলে স্ট্রাইক রোটেট করাই মূল কাজ। আমি ক্রিজে টিকে থাকার চেষ্টা করি এবং দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করার চেষ্টা করি।’
স্পিন মোকাবিলায় উন্নতি
সঞ্জয় বাঙ্গারের মতে, অ্যালেনের স্পিন খেলার ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। শনিবার রাশিদ খান এবং আর সাই কিশোরের বিপক্ষে তার ব্যাটিং ছিল দেখার মতো। বাঙ্গার বলেন, ‘আগে অ্যালেন মূলত লেগ সাইডের খেলোয়াড় ছিল। কিন্তু এখন সে পিচের সব দিকে রান করতে সক্ষম। সে এখন অনেক বেশি ব্যাক ফুটে খেলছে, যা স্পিনারদের লেংথ নষ্ট করে দিচ্ছে।’ ব্যাটের কোণ খোলা রাখার ফলে এখন সে লং অফ, লং অন বা পয়েন্ট দিয়ে অনায়াসেই বড় শট খেলতে পারছে, যা তাকে আরও অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে।
ভবিষ্যতের পথচলা
আইপিএল ২০২৬-এর এই আসরে ফিন অ্যালেনের ফিরে আসা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কেকেআর দলের জন্যও এক বড় স্বস্তি। মার্চ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সে তার সেই দুর্দান্ত ইনিংসের পর থেকেই ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। সেই প্রত্যাশার চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে অ্যালেন এখন কেবল বর্তমানের ক্রিকেট খেলাটাকে উপভোগ করছেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে তিনি যেভাবে আবার শীর্ষ ফর্মে ফিরেছেন, তা বিশ্ব ক্রিকেটের উদীয়মান তরুণদের জন্য বড় শিক্ষণীয় বিষয়। এখন দেখার পালা, ফিন অ্যালেনের এই বিধ্বংসী রূপ কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শিরোপার পথে কতটা এগিয়ে নিতে পারে।
