Harmanpreet: India looking for ‘clarity’ on best XI ahead of T20 World Cup – টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সেরা একাদশ খুঁজতে মরিয়া ভারত: ইংল্যান্ড সিরিজের গুরুত্ব
Contents
বিশ্বকাপের আগে চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখোমুখি ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় ঘনিয়ে আসছে, আর ঠিক এই মুহূর্তে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সেরা একাদশ খুঁজে পাওয়া। ইংল্যান্ডের মাটিতে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, বরং বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। দলের নিয়মিত দুই অলরাউন্ডার আমনজোট কৌর এবং কাশ্বি গৌতমের চোটের কারণে দলের ভারসাম্য বজায় রাখা এখন মূল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চোটের ধাক্কা এবং নতুন সুযোগের সন্ধানে ভারত
আমনজোট কৌর পিঠের চোটের কারণে দলের বাইরে আছেন, অন্যদিকে কাশ্বি গৌতম হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর এই দুই তারকার অনুপস্থিতি ভারতের জন্য নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। হারমানপ্রীত কৌর জানিয়েছেন, দলের নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
- ভারতী ফুলমালি: লোয়ার মিডল অর্ডারে তার অন্তর্ভুক্তি দলের গভীরতা বাড়াতে পারে। ২০১৯ সালের পর থেকে তিনি খুব কম ম্যাচ খেললেও তার ওপর আস্থা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
- শ্রেয়াঙ্কা পাতিল: অফস্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি দলের একাদশে ভারসাম্য আনার দারুণ বিকল্প।
- রাধা যাদব ও যস্তিকা ভাটিয়ার প্রত্যাবর্তন: রাধা যাদব ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, অন্যদিকে যস্তিকা ভাটিয়া উইকেটকিপিং ও টপ অর্ডারে বাড়তি নিরাপত্তা দেবেন।
অধিনায়কের ভাষ্য: জয় এবং পরীক্ষা
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে হারমানপ্রীত বলেন, ‘আমরা দুটি বিষয় মাথায় রেখেছি। একদিকে যেমন জয়টা জরুরি, যা বিশ্বকাপের আগে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, অন্যদিকে সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে পাওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমনজোট এবং কাশ্বি না থাকায় আমরা এখন নতুনদের সুযোগ দিচ্ছি যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।’
হারমানপ্রীত আরও যোগ করেন যে, ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখা যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই বিশেষ কিছু। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডেই নিজের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল তার। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক প্রক্রিয়া মেনে চললে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে বিশ্বকাপে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া সম্ভব।
ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দলও তাদের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে কাজ করছে। নিয়মিত অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকায় তাদের জন্য এটি একটি কঠিন সময়। তবে ড্যানি-ওয়াট হজের প্রত্যাবর্তন দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে দলের শক্তি বাড়াবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়ে ভারতের বিপক্ষে ভালো লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার অ্যামি জোন্স জানান, চাপের মুখে ম্যাচ বের করার যে শিক্ষা তারা নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে পেয়েছেন, তা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
এই তিন ম্যাচের সিরিজটি ভারত এবং ইংল্যান্ড উভয় দলের জন্যই একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে নিজেদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেরা একাদশ নির্বাচনই এখন উভয় কোচিং স্টাফের প্রধান লক্ষ্য। ভারতীয় ভক্তরা আশা করছেন, হারমানপ্রীতের নেতৃত্বে নতুন খেলোয়াড়রা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করবেন। খেলাপ্রেমীরা এখন মুখিয়ে আছেন বৃহস্পতিবার চেলমসফোর্ডে শুরু হতে যাওয়া এই হাই-ভোল্টেজ লড়াই দেখার জন্য।
