লিটন দাসের সেঞ্চুরির নেপথ্যে কি শুধুই ভাগ্য? মুখ খুললেন খুররম শেহজাদ
Contents
সিলেট টেস্ট: লিটন দাসের সেঞ্চুরি ও খুররম শেহজাদের আক্ষেপ
সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া লিটন দাসের সেঞ্চুরি নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে পাকিস্তানের পেসার খুররম শেহজাদের মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশ যখন মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন লিটন দাসের ১২৬ রানের বীরত্বপূর্ণ ইনিংসই দলকে ২৭৮ রানের সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেয়।
সুযোগ হাতছাড়া করার আক্ষেপ
পাকিস্তানের বোলাররা মনে করছেন, তারা যদি নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ কাজে লাগাতে পারতেন, তবে বাংলাদেশকে ২০০ রানের আগেই অলআউট করা সম্ভব ছিল। খুররম শেহজাদ ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সরাসরিই বলেছেন, লিটন দাসের আউট হওয়ার বেশ কিছু সুযোগ ছিল, কিন্তু রিভিউ না নেওয়ার ভুলে তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
খুররম বলেন, ‘আমরা দ্রুত কিছু উইকেট তুলে নিতে পেরেছিলাম, কিন্তু বেশ কয়েকটি রিভিউ নিতে ভুল করেছি। লিটন দাস একবার আউট ছিলেন, কিন্তু আমরা সেটি ধরতে পারিনি। যদি তাকে আগেই ফেরাতে পারতাম, তবে তাদের ইনিংস অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। ক্রিকেটে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক।’
‘লিটন দাসের দিনটি ছিল ভাগ্যের’
খুররম শেহজাদ বারবার লিটন দাসের ইনিংসকে ‘ভাগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ২৬ রান থাকা অবস্থাতেই লিটন আউট হতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘আজ লিটন খুবই ভাগ্যবান ছিল। তাকে দুইবার জীবন দেওয়া হয়েছে। সে যদি দ্রুত আউট হয়ে যেত, তবে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন হতে পারত। তবে আমরা তারপরও তাদের ৩০০ রানের নিচে আটকে রাখতে পেরেছি, এটিই স্বস্তির।’
পাকিস্তানের পেসার আরও যোগ করেন, ‘আমরা লিটনকে আউট করার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করেছিলাম। বিশেষ করে আমার বোলিংয়ে দুইবার সুযোগ এসেছিল। আমরা আক্রমণাত্মক বোলিং করছিলাম, আর সেই কারণেই রানও যেমন আসছিল, সুযোগও তৈরি হচ্ছিল।’
লিটন দাসের সাবলীল উত্তর
প্রতিপক্ষের এমন মন্তব্য কানে আসার পর লিটন দাস অবশ্য বেশ শান্ত ও পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন। তাকে যখন ‘লাকি’ বা ভাগ্যবতী খেলোয়াড় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তখন তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘ভাগ্য? ঠিক আছে। ক্রিকেটে মাঝেমধ্যে ভাগ্যের প্রয়োজন হয়। আপনি সবসময় নিখুঁত হতে পারবেন না। আপনি যখনই কোনো সুযোগ পাবেন, সেটি কাজে লাগাতে হবে।’
ম্যাচের সামগ্রিক চিত্র
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, একজন ব্যাটারের ধৈর্য ও চাপের মুখে টিকে থাকার ক্ষমতা অনেক সময় ভাগ্যের চেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। লিটন দাসের ইনিংসটি ছিল সেই ধরনেরই। পাকিস্তান শুরুতে আধিপত্য বিস্তার করলেও লিটন যেভাবে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
খুররম শেহজাদের এই মন্তব্য ক্রিকেটীয় কৌশলের অংশ হতে পারে, তবে লিটন দাস যে তার ইনিংস দিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছেন, তা অনস্বীকার্য। টেস্ট ক্রিকেটে এমন টানটান উত্তেজনা ও কথার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ম্যাচটি আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী দিনগুলোতে দুই দল এই মানসিক লড়াইয়ে কীভাবে টিকে থাকে।
ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন ক্রিকেট প্রেমীদের প্রধান আগ্রহের বিষয়। লিটনের এই ভাগ্য কিংবা দক্ষতা— যাই বলা হোক না কেন, তার সেঞ্চুরিটি সিলেট টেস্টের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
