সিরিজ হারলেও বাংলাদেশের পিচের প্রশংসায় শান মাসুদ
Contents
উইকেটের প্রশংসা পেল বিসিবি
ক্রিকেট মাঠে পিচ নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ দলের ঘরের মাঠের পিচ নিয়ে অতীতে দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের নানা অভিযোগ শোনা যেত। তবে এবারের বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজে চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদিও পাকিস্তান দল সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে, তবুও পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ বাংলাদেশের পিচ প্রস্তুতির জন্য বিসিবিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
প্রতিযোগিতামূলক টেস্টের সাক্ষী দুই দেশ
মিরপুর ও সিলেটে অনুষ্ঠিত দুটি টেস্ট ম্যাচই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সিরিজের দুটি ম্যাচই পঞ্চম দিন পর্যন্ত গড়িয়েছে। যদিও বাংলাদেশ দুটি ম্যাচেই যথাক্রমে ১০৪ ও ৭৮ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছে, তবে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে লড়াইয়ের তীব্রতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পাকিস্তান দল দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচে টিকে ছিল এবং জয়ের স্বপ্নও দেখেছিল। এই ধরনের লড়াই তখনই সম্ভব হয় যখন পিচ উভয় দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে দেয়।
পিচের ভারসাম্য ও বোলারদের দাপট
শান মাসুদের মতে, এবারের পিচগুলো ছিল অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘প্রথমেই আমি তাদের কৃতিত্ব দিতে চাই যারা এই ধরনের পিচ প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উইকেটগুলো দুর্দান্ত ছিল। আমরা এমন সব সারফেসে খেলেছি যেখানে ব্যাটাররা রান পেয়েছে, স্পিনাররা ঘূর্ণি পেয়েছে এবং পেসাররা গতি, বাউন্স ও মুভমেন্ট আদায় করতে পেরেছে। এটি সত্যিকার অর্থেই দুই দলের জন্য একটি দারুণ টেস্ট ক্রিকেট উপহার দিয়েছে।’ বিশেষ করে নাহিদ রানার মতো পেসাররা যেভাবে বাউন্স ও মুভমেন্ট পেয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে উইকেটগুলো আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের উপযুক্ত ছিল।
টেস্ট ক্রিকেটের প্রসারে মাসুদের আহ্বান
শুধু পিচ নয়, শান মাসুদ টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও তার ভাবনা শেয়ার করেছেন। তিনি বরাবরই মনে করেন যে, টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও মান বাড়াতে নিয়মিত দীর্ঘ সিরিজের প্রয়োজন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে তিন বা চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আয়োজন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে শান মাসুদ আরও যোগ করেন, ‘আমি সবসময়ই বলে আসছি যে আমাদের আরও বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলা প্রয়োজন, তা বাংলাদেশ হোক বা অন্য কোনো দল। শুধু দুই ম্যাচের সিরিজ নয়, দীর্ঘ সিরিজের দিকে আমাদের নজর দেওয়া উচিত। আমরা আরও বেশি টেস্ট খেলতে চাই। অনেক সময় নতুন কন্ডিশনে মানিয়ে নিতেই একটি ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। তাই নিয়মিত তিন বা চার ম্যাচের সিরিজ আয়োজন করা হলে উভয় দলের ক্রিকেটাররাই নিজেদের সামর্থ্য ভালোভাবে পরখ করতে পারবেন।’
উপসংহার
সিরিজের ফলাফল পাকিস্তানের জন্য হতাশাজনক হলেও, শান মাসুদের এমন ইতিবাচক মন্তব্য প্রমাণ করে যে ক্রিকেটের মূল সৌন্দর্য বজায় রাখতে উইকেট কত বড় ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের পিচ নিয়ে যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ছিল, তা এবার অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে জয়ী বাংলাদেশ দল যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি বিসিবির পিচ প্রস্তুতকারক দলও তাদের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে এমন আরও দীর্ঘমেয়াদী সিরিজ আয়োজন করা হলে তা দুই দেশের ক্রিকেটের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
