‘We didn’t seize those moments’ – Badani on DC’s what-could-have-been season: দিল্লি ক্যাপিটালসের আক্ষেপের মরসুম
Contents
দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত: হেমং বাদানির চোখে আইপিএল ২০২৬
দিল্লি ক্যাপিটালসের (DC) জন্য আইপিএল ২০২৬ মরসুমটি যেন পুরনো অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি। দলের দায়িত্বে যে-ই থাকুক না কেন, গত পাঁচ বছর ধরে প্লে-অফের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। হেমং বাদানি এবং অক্ষর প্যাটেলের কোচিং ও নেতৃত্বের জুটিও পরপর দুবার দলকে সেরা চারের তালিকায় জায়গা করে দিতে পারল না। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বাদানি স্পষ্ট করেছেন যে, ছোট ছোট ভুলের কারণেই তাদের এবারের অভিযান শেষ হয়েছে হতাশায়।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো হাতছাড়া হওয়ার খেসারত
মরসুমের শেষে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে জয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বাদানি অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘We didn’t seize those moments’ – Badani on DC’s what-could-have-been season এই ধারণাটিই এবারের দলের মূল সমস্যা ছিল। তিনি জানান, গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে মাত্র এক রানে হার কিংবা পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ২৬৪ রান ডিফেন্ড করতে না পারা—এমন অনেক ম্যাচই ছিল যা দিল্লি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারত।
বাদানির কথায়, ‘ক্রিকেট আসলে খুব ছোট ছোট মার্জিনের খেলা। আমরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ ফেলেছি, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছি এবং যখনই সুযোগ এসেছে, তা কাজে লাগাতে পারিনি।’
উইকেট নেওয়ার খরা এবং মিচেল স্টার্কের অনুপস্থিতি
দিল্লির ব্যর্থতার অন্যতম বড় কারণ ছিল নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলতে না পারা। ১৪টি ম্যাচে তারা মোট ৬৪টি উইকেট শিকার করতে পেরেছে, যা এবারের আইপিএলের অন্যতম সর্বনিম্ন পরিসংখ্যান। দলের প্রধান পেসার মিচেল স্টার্ক প্রথম নয়টি ম্যাচে দলে ছিলেন না, যা দলের সামগ্রিক বোলিং শক্তিকে অনেকটা দুর্বল করে দিয়েছিল। যদিও বাদানি মনে করেন, স্টার্কের উপস্থিতি বড় পার্থক্য গড়তে পারত, তবুও দলের অন্য বোলারদের কাছেও সুযোগ ছিল নিজেদের প্রমাণ করার।
অক্ষর প্যাটেলের অধিনায়কত্ব ও মানসিক দৃঢ়তা
দলের অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলও বাদানির সুরেই কথা বলেছেন। যদিও দিল্লি প্লে-অফে যেতে পারেনি, তবে শেষ তিনটি ম্যাচে জয়ের মানসিকতা বজায় রাখা নিয়ে তিনি গর্বিত। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্বের চাপ সামলানো প্রসঙ্গে অক্ষর বলেন, ‘টুর্নামেন্টের চাপে নিজের মেজাজ ঠিক রাখা সবচেয়ে জরুরি। আপনি যদি হতাশায় ভুল সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন, তবে দলের ক্ষতি হবে। তাই আমি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি এবং দলের প্রত্যেকের খেয়াল রাখার দিকে মনোযোগ দিয়েছি।’
আগামী দিনের পথচলা: এক নতুন শুরু
আইপিএলের পরবর্তী মরসুম দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য এক নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জিএমআর স্পোর্টস থেকে জেএসডব্লিউ স্পোর্টসের হাতে মালিকানার নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার ফলে দলটিতে একটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, বারবার ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে দিল্লি কি আদৌ নিজেদের খোলস বদলে নতুন করে ফিরতে পারবে? ২০২৬ মরসুমটি তাদের কাছে কেবল ‘যদি এমনটা হতো’র তালিকা দীর্ঘতর করল মাত্র। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাদের পুরনো ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।
দিল্লি ক্যাপিটালসের ভক্তদের জন্য এই মরসুমটি ছিল চরম হতাশার। তবুও দলের লড়াই করার মানসিকতা পরবর্তী মরসুমের জন্য কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো লুফে নেওয়ার মানসিকতাই হয়তো ভবিষ্যতে তাদের সাফল্যের পথ দেখাতে পারে।
